ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং জনতার মঞ্চের রূপকার ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী আগামী শনিবার (১ এপ্রিল)।
হানিফ ১৯৪৪ সালের ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা আবদুল আজিজ, মাতা মুন্নি বেগমের পরিবারে তিনি ছিলেন সবচেয়ে ছোট ছেলে।
তার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবে। এ নেতার একমাত্র পুত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন তার পিতার জন্মবার্ষিকীতে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন এ রাজনীতিক যৌবনের শুরু থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। মোহাম্মদ হানিফ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
মোহাম্মদ হানিফ ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পান। এ সময় ছয়দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তীতে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে প্রথম কাতারে থেকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
১৯৯৪ সালে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে তিনি ঢাকার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। তারই নেতৃত্বে ’৯৬-এর মার্চের শেষ সপ্তাহে ‘জনতার মঞ্চ’ গঠিত হয়। যা আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে শেখ হাসিনার ওপর নারকীয় গ্রেনেড হামলার সময় নেত্রীকে বাঁচাতে মানবঢাল রচনা করেছিলেন তিনি। সে সময় তার মস্তিকসহ দেহের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ঘাতক স্প্রিন্টার ঢুকে পড়ে। দীর্ঘ দিন চিকিৎসাতেও কোন ফল হয়নি, বরং অস্ত্রোপ্রচার করেও মাথার গভীরে বিধে থাকা স্প্রিন্টার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। দুঃসহ ওই যন্ত্রণা সহ্য করেই মোহাম্মদ হানিফ জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এ নেতা ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তাঙ্গণে এক সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতা দেয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মাথায় বিদ্ধ স্প্রিন্টারের প্রতিক্রিয়া পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও অকাল মৃত্যুর কারণ হিসেবে কাজ করেছে। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে ৬২ বছর বয়সে মৃৃত্যুবরণ করেন।







