সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের করা ৫০৮ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে গেছে ১১১ রানে। ১৯ বছরের পথচলায় ১১৩তম টেস্টে এসে প্রথমবার কোনো দলকে ফলো-অনে ফেলল টাইগাররা।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে সবশেষ টেস্টে ফলো-অন করানোর সুযোগ ছিল। তবে নিরাপদ দূরত্বে থেকে ম্যাচ জিততে সেটি করেনি বাংলাদেশ। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে প্রথম ইনিংসে রানের ব্যবধান ৩৯৭ হওয়ায় সফরকারীদের আবার ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল।
মেহেদী হাসান মিরাজ একাই নিয়েছে ৭ উইকেট। এ অফস্পিনারের ক্যারিয়ারসেরা (৫৮/৭) বোলিংয়ে তৃতীয় দিনের সকালের প্রথম ঘন্টাতেই শেষ ৫ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ উইকেটটি নিয়েছেন সাকিব।
আগের দিন উইন্ডিজের পাঁচ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন বোল্ড হয়ে। যেখানে মিরাজের শিকার ৩ উইকেট। তৃতীয় দিনের সকালে প্রতিরোধ গড়া শিমরন হেটমায়ারকে সোজা ব্যাটের শটে দারুণ ক্যাচ নিয়ে কট অ্যান্ড বোল্ড হন। এ বাঁ-হাতি। করেন ৩৯ রান। দিনের ১১ আর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ৫৭ রান। ২৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর এই জুটিটাই ছিল সফরকারীদের শেষ ভরসা।
দেবেন্দ্র বিশু নেমেই মিরাজের শর্ট বলে কাভার ড্রাইভ করতে গিয়ে সিলিতে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলামের হাতে। বিশু জোরের উপর খেললেও বলের উপর থেকে চোখ সরাননি সাদমান। লুফে নেন দারুণ ক্যাচ। ঝটপট দুই শিকার করে ষষ্ঠবার ৫ উইকেট শিকর করেন মিরাজ। কেমার রোচ এসেও সময় নেননি সাজঘরে ফিরতে। উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মিরাজের বলেই।
মিরাজকে সপ্তম উইকেট দিয়ে ডওরিচ ফেরেন দলের রান একশ পার করে। ৩৭ রান করা এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হন এলবিডব্লিউ। রানের খাতা খোলার আগেই ক্যারিবীয়দের শেষ ব্যাটসম্যান লুইস সাকিবের ঘূর্ণিতে হন এলবিডব্লিউ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজে নাভিশ্বাস উঠেছিল বাংলাদেশের। ৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২-০তে সিরিজ হারের যন্ত্রণা মনে রেখেছে সাকিব আল হাসানের দল। ঘরের মাঠে একই প্রতিপক্ষকে পেয়ে সেই যন্ত্রণা ফিরিয়ে দেয়ার পথে টিম টাইগার্স। চট্টগ্রাম, মিরপুরকেই তারা বানাতে চায় অ্যান্টিগা, জ্যামাইকা।
চট্টগ্রামে উইন্ডিজকে ৬৪ রানে হারিয়ে সিরিজে লিড নেয়া বাংলাদেশ মিরপুরে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে চালকের আসনে। সিরিজ ২-০ করতে মরিয়া স্বাগতিকদের হৃদয়ে ঝড় তুলেছে জয়ের নেশা।
বাংলাদেশের দেয়া ৫০৮ রানের জবাবে উইন্ডিজ দ্বিতীয় দিন শেষ করে ৫ উইকেটে ৭৫ রান তুলে। ফলো-অন এড়াতেই সফরকারীদের দরকার ছিল আরও ২৩৩ রান। বাংলাদেশের স্পিন বিষে নীল হওয়া ক্যারিবীয়রা শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে যোগ করে মাত্র ৩৬ রান।
আগের দিন বিকেলে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ভাগাভাগি করে সাকিব উইন্ডিজের ৫ উইকেট তুলে নিলেন ঝটপট। সবগুলোই বোল্ড। টেস্টে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে মাত্র দুইবার। যেখানে শুরুর পাঁচ ব্যাটসম্যান ক্রিজ ছেড়েছেন বোল্ড হয়ে।







