ভারতজুড়েই এখন প্রতিবাদে জ্বলছে সর্বস্তরের মানুষ। কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্যটি। কিংবদন্তি ক্রিকেটার, ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি দুঃখজনক ঘটনাটি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। সেটি নিয়েও ছড়িয়েছে বিতর্ক। সেটির জেরে দ্রুত আরেকটি বক্তব্য দিয়ে নিজের পক্ষ পরিষ্কারের চেষ্টা করেছেন প্রিন্স অব ক্যালকাটা।
গত ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধারের দুদিন পর সৌরভ বলেছিলেন, ‘এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ছেলে হোক বা মেয়ে, কারও সঙ্গেই এমন হওয়া উচিত নয়। এমন অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। এই ঘটনায় প্রশাসনের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আসলে এই ধরনের ঘটনা যেকোনো জায়গায় হতে পারে। দুর্ভাগ্যক্রমে ঘটনাটা ঘটল হাসপাতালে।’
আরও অনেক কথার সঙ্গে সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘ভারতকে সাধারণত একটি নিরাপদ দেশ হিসেবেই গোটা বিশ্ব চেনে। বাংলাও নিরাপদ। সেখানে এধরনের ঘটনা হওয়া উচিত নয়। প্রতিটি হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজন। একইসঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার থাকা উচিত।’
সৌরভ পরে যা বলেন সেটি নিয়েই মূলত বিতর্কের জন্ম। বলেন, ‘কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনা থেকে সামগ্রিক চিত্র বিচার করা উচিত নয়। বাংলায় মেয়েদের নিরাপত্তা আছে। এতে রাজ্যের নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে এমনটাও ভাবার দরকার নেই। রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ভালো। এমনকি গোটা ভারতেও মেয়েদের নিরাপত্তা রয়েছে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধ পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় হতে পারে। তবে এই ঘটনা কড়া হাতে মোকাবিলা করতে হবে।’
‘কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনা’- এটি বলে বিতর্কের মুখে পড়েন সৌরভ। কথার জেরে তাকে বয়কট করার প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ঘিরে প্রতিবাদ বাড়তে থাকে। নামী-দামী তারকারাও সৌরভকে তীর্যকবাণে ভাসাতে থাকেন। শেষে অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি আবারও বক্তব্য দিয়েছেন। এবার একটু ভিন্ন সুরে বলেছেন কিংবদন্তি বাঁহাতি ব্যাটার।
‘গত রবিবার আমি এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলাম। আমি জানি না আমার বক্তব্যের কী ব্যাখ্যা হয়েছে। আবারও বলছি এই ঘটনা ভয়ঙ্কর। দোষীদের এমন শাস্তি হোক যাতে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা কেউ ঘটাতে না পারে। তদন্ত চলছে, আশা করব দোষীকে চিহ্নিত করে শাস্তি হবে। যেভাবে মানুষ প্রতিবাদ করছেন এ ঘটনা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে হলে এভাবেই মানুষ গর্জে উঠতেন।’
‘সেই দিকটাও চিকিৎসকদের ভাবা উচিত। কারণ প্রচুর মানুষ চিকিৎসকদের মুখের দিকে চেয়ে থাকেন। চিকিৎসা না হলে সেক্ষেত্রেও প্রচুর অসুস্থ মানুষদের অসুবিধে হয়।’ সঙ্গে যোগ করেন সৌরভ।







