কোচ হয়ে স্প্যানিশ রাজধানীতে জিনেদিন জিদানের কাজ দিনদিন উত্তেজনাকর হয়ে উঠেছে। তবে তিনি যদি রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তৃতীয় ও সবমিলিয়ে ১৩তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতাতে চান, তাহলে অবশ্যই তাকে ব্রিটিশ অভিশাপের মুখোমুখি হতে হবে এবং সেটাকে পরাজিত করতে হবে।
এর আগে ১৫বার ফাইনালে উঠে ১২বারই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে রিয়াল। আরে একবার ফাইনালে উঠেছে তারা। তবে এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে লস ব্লাঙ্কোসদের সর্বশেষ হারটা আবার এবারের শিরোপা নির্ধারণী প্রতিপক্ষ লিভারপুলের বিপক্ষেই।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ইউরোপের টুর্নামেন্টে মোট তিনটি ফাইনালে ব্রিটিশ ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল। এখানে শতভাগ হারের রেকর্ড তাদের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের কাছে হারের সঙ্গে ইউরোপিয়ান উইনার্স কাপের দুটি ফাইনালে চেলসি ও অ্যাবেরদিনের কাছেও হারে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
১৯৭১ সালে ইউরোপিয়ান উইনার্স কাপের ফাইনালে চেলসির বিপক্ষে হারে রিয়াল। তখন অবশ্য ফাইনাল হত দুই ম্যাচের। দুটিতেই রিয়ালকে হতাশ করে ব্লুজরা। গ্রীসের এথেন্সে প্রথম ম্যাচ ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এর ঠিক দুদিন পরে ফিরতি ম্যাচে মাঠে নামে দুদল। তাতে লস ব্লাঙ্কোসদের ২-১ গোলে হারায় চেলসি।
ফ্রান্সের প্যারিস শহরের অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম পার্ক দেস প্রিন্সেসে ১৯৮১ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে জিতেছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লিভারপুল। তখন অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নাম ছিল ইউরোপিয়ান কাপ। ফাইনালে অ্যালান কেনেডির একমাত্র গোলে রিয়ালকে হারিয়ে নিজেদের তৃতীয় শিরোপা জিতেছিল অলরেডরা।
প্রথম দুইবার ব্রিটিশ ক্লাবের কাছে হারের পর তৃতীয়বার সুযোগ আসে রিয়ালের সামনে। ১৯৮৩ সালে ইউরোপিয়ান উইনার্স কাপের ফাইনালে তারা মুখোমুখি হয় ব্রিটিশ-স্কটিশ ক্লাব অ্যাবেরদিনের। কিন্তু আবারও হৃদয় ভাঙে স্প্যানিশদের। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে অতিরিক্ত সময়ে জন হিউইটের গোলে জয় তুলে নেয় অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল। এই ম্যাচের পরই প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলোর কাছে ফার্গির কোচিং দর্শনের গুরুত্ব বেড়ে যায়।
১৫বার ফাইনালে উঠে ১২বারই চ্যাম্পিয়ন্স। ইউরোপে এমন একটি অবিস্মরণীয় রেকর্ড আছে যে ক্লাবের, সেই রিয়াল এই ধরনের একটা দুর্ভাগ্যজনক রেখা তো মুছে ফেলতে চাইবেই। তবে অবশ্যই অবশ্যই লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ কিয়েভে শিরোপাটা উচিয়ে ধরতে চাইবেন।







