হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্গো কমপ্লেক্সে সংঘবদ্ধ মালামাল ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান শ্যামল এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু বাইরের লোকজনই নন, ছিনতাইকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে কার্গো কমপ্লেক্সের লোকজনও জড়িত।
গত ১০ আগস্ট দুপুরে শ্যামল বাহিনীর লোকজন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকে ছিনিয়ে নিয়েছিলো ৫০ কোটি মুল্যের ১৫টি কার্টুন ভর্তি সামগ্রী । এসময় কাস্টমস কর্মকর্তারা বাধা দিলে তাদেরকে লাঠি দিয়ে মারপিট করে ওই বাহিনীর সদস্যরা। পরের দিন এ ঘটনা নিয়ে বিমান বন্দর থানায় মামলা দায়ের করে কাস্টমস কতৃপক্ষ। ভিডিও ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারী চক্রকে ধরতে মাঠে নামে র্যাব।
মঙ্গলবার রাতে র্যাব-১ এর একটি দল মিরপুর বেনারসী পল্লীতে অভিযান চালিয়ে শ্যামল বাহিনীর প্রধান বদরুল আলম শ্যামল এবং তার দুই সহযোগী ফখরুল আলম প্রিন্স ও আসিফুজ্জামান প্রিন্সকে গ্রেফতার করে।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে.কর্ণেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, এই শ্যামল মূলত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে একটি চোরাচালানের সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। লে.কর্ণেল তুহিন বলেন, এই দলটির কাস্টমসে বিভিন্ন জায়গায় আনাগোনা রয়েছে। যার সুবাদে তারা কাস্টমসের ভেতরে এবং বাইরে অনেকের যোগসাজসে জোর-জবরদস্তি মুলকভাবে অতীতে এবং বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের অনেক সামগ্রী কাস্টমসের বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, প্রয়োজনীয় ডিউটি এবং কাস্টমস প্রদান না করে বের করে নিয়ে গেছে।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি ছিনতাইকারী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন থেকে কার্গো ভিলেজের ভেতর থেকে মালামাল লুট করার পাশাপাশি বিমানবন্দর দিয়ে সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।
লে.কর্ণেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, শ্যামলের এই বাহিনীর মতো আরো কয়েকটি বাহিনী এই কাস্টমসে জোর-জবরদস্তি মুলকভাবে প্রয়োজনীয় কাস্টম প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের মালামাল নিয়ে যায় বলে আমরা জেনেছি। এবং এদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ আছে এবং তারা নিজেরা মারামারি করে গতবছর পাল্টাপাল্টি মামলা করেছিলো।
বিমানবন্দর কেন্দ্রীক অন্য ছিনতাইকারী সিন্ডিকেটের সদস্যদেরও ধরতে অভিযান শুরু করেছে র্যাব।






