কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম আবারও যেন দুই বাংলার মানুষকে ছাপিয়ে উপমহাদেশের একতার উপলক্ষ হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বভারতী এবং কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সফরে এমনটাই লক্ষ্য করা গেছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে, আর মোদী উপস্থিত হয়েছেন সেখানে। সেসময় শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পেয়েছে এক নতুন মাত্রা। দু’ দেশের কূটনীতি এবং বোঝাপড়ায় এটা অবশ্যই মাইলফলক হয়ে থাকবে।
শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী কবির স্মৃতি বিজড়িত আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি (ডি-লিট) প্রদান করেছে।
ওই সমাবর্তনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন: ‘আমরা শুধু বাংলাদেশের কথা ভাবি না। আমরা উপমহাদের কথা ভাবি। দারিদ্রমুক্ত উপমহাদেশ আমরা দেখতে চাই। তাই আজ যারা এখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষা জীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে, তাদের বলবো- জীবনে কর্মক্ষেত্রে মানবতাবোধকে সবার উপরে স্থান দেবে। নজরুল আমাদের শিখিয়েছেন, মানবতা এবং মানব কল্যাণেই জীবনের প্রশান্তি।’
এখনকার বাস্তবতায় শুধু বাংলাদেশ কিংবা ভারতের কারো পক্ষেই একলা চলার নীতি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা সুস্পষ্ট। একলা চলো নীতি কখনো সম্ভব হবে না বলেই আমরা বিশ্বাস করি। কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, যা কখনো কেউ ইচ্ছা করলেই মুছে ফেলতে পারবে না।
এরপরও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে, যা এখনও সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ছিটমহলের মতো সমস্যার বিরল সমাধান হলেও এখনও তিস্তা সংকট রয়ে গেছে। আছে সীমান্তে হত্যার মতো বিষয়, পাশাপাশি মাদকসহ চোরাচালান।।
আর আরেক প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের কারণে রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই সমাধানের বিষয়ে ভারতের তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। বরং ভারতের বিভিন্ন পর্যায় থেকে মিয়ানমারের অমানবিক কার্যক্রমকে এক ধরনের সমর্থন দেয়া হয়েছে। এতে হয়তোবা ভারত-মিয়ানমারের স্বার্থ থাকতে পারে, তবে মানবতার পক্ষ নেওয়ার চেয়ে বড় কোনো স্বার্থ ভারতের থাকতে পারে না বলেই আমরা মনে করি। কারণ, এর আগেও অনেক মানবিক সংকটে ভারত মানবতার পক্ষেই দাঁড়িয়েছে।
আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন যে উচ্চতায় গিয়েছে, তাতে বাংলাদেশ-ভারত সবসময় একে অপরের পাশে থাকবে।







