বন্ধুপ্রতিম দুই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ-ভারতের ভাষা-সংস্কৃতি ও ইতিহাসে রয়েছে অনেক মিল। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতায় দুই দেশকে পরস্পরের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
বাংলাদেশ-ভারত পরস্পরের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ, এ বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞগণ।
বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের কাছে বেশ কিছু কারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির। তিনি চ্যনেল আই অনলাইনকে বলেন: বাংলাদেশ-ভারত পরস্পরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কারণে। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও মানুষে-মানুষে যে সম্পর্ক, সেটাই দুই দেশকে দু দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সেই সঙ্গে আমাদের এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের নামে যে ‘অস্থিরতা’ দেখা দিচ্ছে, তা প্রতিরোধে বাংলাদেশ-ভারত পরস্পরেরই পরস্পরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
একই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আশেকা ইরশাদ।
অধ্যাপক আশেকা ইরশাদ বলেন: ‘বাংলাদেশ ভারত এই দুই দেশ পরস্পরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার বহুমাত্রিক কারণ রয়েছে। এসবের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থা তথা দীর্ঘ সীমান্ত ও অভিন্ন নদী দুই দেশকে পরস্পরের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
‘এছাড়া এই দুই দেশের ইতিহাস, ভাষা ও ধর্মের মিল দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে গুরুত্ব তৈরি করেছে। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয়ে দুই দেশের নিজেদের অবস্থানগত আলাদা আলাদা সিদ্ধান্ত নেয়ার বাস্তবতায় বাংলাদেশ-ভারত উভয়ের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।’
নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে এই দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক আশেকা ইরশাদ আরো বলেন: ‘বাংলাদেশ-ভারত পরস্পরের মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সেটা এগিয়ে নিতে হবে। এখানে কে বড় কে ছোট দেশ তা দেখার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে ভারতকে মনে রাখতে হবে, ভৌগোলিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ হয়তো ছোট, কিন্তু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কোনো ভাবেই ছোট নয়।
সেই সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে যে, প্রতিবেশী বন্ধপ্রতিম এই দুটি দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি কেবল বাংলাদেশ-ভারত পরস্পরের জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই অঞ্চলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের সহযোগিতার সম্পর্ককে এক ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে চার দিনের সফরে শুক্রবার দুপুরে ভারত পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে ভারতের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, পরমাণু বিদ্যুৎ, বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিন ডজন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।








