শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয়ের মধ্য দিয়ে অনেক অজানাকে জেনেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তার ধারণা ছিল, বাংলাদেশ দলে তামিম-সৌম্য-সাব্বির ছাড়া কেউ মেরে খেলতে পারে না। শনিবার প্রেমাদাসায় ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে বিসিবি সভাপতির ধারণা পাল্টে দিয়েছেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম।
নিধাস ট্রফির শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় আছেন নাজমুল হাসান পাপন। টাইগারদের ২১৪ রান তাড়া করে পাওয়া জয় দেখেছেন মাঠে বসেই। রোববার কলম্বোয় তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘তামিম–সৌম্য যে মারতে পারে আমরা জানি। লিটন যে মারতে পারে জানতাম না। মুশফিককে বললাম, তুমি যে এমন মারতে পার, জানতামই না! ও তো আসলে গত দুই বছরে ছয় মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ আউট হচ্ছিল। ও মারতে পারে। কিন্তু ছয় মারার খেলোয়াড় নয়। ছয় মারে তিনজন, তামিম, সৌম্য, সাব্বির।’
‘সাব্বির তো ছন্দেই নেই। ভাল ফিল্ডিং করেছে, যা হোক। লিটন কাল (শনিবার) যেভাবে খেলেছে, তাতে খেলার টোন বদলে দিয়েছে। তামিমের ওপর চাপ কমে যায়। তামিম মারা শুরু করল, সৌম্য ধরে রাখল। মুশফিক এল, সৌম্য মারা শুরু করল। এই যে পরিকল্পনা—এটাই ছিল দেখার মতো।’
ম্যাচসেরা মুশফিক ৪ ছক্কা ও ৫ চারে ৩৫ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলে ছিলেন অপরাজিত। ওপেনিংয়ে নামা লিটন ৫ ছক্কা ও ২ চারে ১৯ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে ঝড়ো সূচনা এনে দেন দলকে। তামিম ৪৭, সৌম্য ২৪ ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০ রানের ইনিংস খেলে রাখেন অবদান। তাতে বাংলাদেশ ২১৪ রান তাড়া করে জেতে ২ বল হাতে রেখে।
ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের আত্মাহুতি দেখে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন সবাই। হতাশা ছড়িয়েছিল খেলোয়াড়দের মাঝেও। নাজমুল হাসান মনে করেন শনিবারের অসাধারণ জয় সেটি কাটিয়ে সম্ভাবনার দিকে ধাবিত হবে বাংলাদেশ।
বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘কাল (শনিবারের ম্যাচের আগে) বলেছিলাম হার-জিত ব্যাপার নয়, তবে প্রতিটি বলে প্রতিটি খেলোয়াড়কে বোঝাতে হবে আমরা জিততে চাই। কাল একটা জিনিস ভাল লেগেছে যে, হঠাৎ করে লিটন দাসকে ওপেনিংয়ে এনেছে। শ্রীলঙ্কা হয়তো পরিকল্পনা করেছিল তামিম ও সৌম্যকে নিয়ে। কোন বোলার আনবে সেটাও সেট করা। এই পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটাতেই লিটনকে ওপেনিংয়ে আনা। আর লিটন যেহেতু ছন্দে আছে, যে বোলার আসুক সে মারতে পারবে। তখন তামিম পরের দিকে এসে বলল, এটা খারাপ নয়। ভালো আইডিয়া। আমি শুধু বললাম, যাই করো লিটন ও সৌম্যর সঙ্গে একটু কথা বলে নিও।’
‘আমরা সব সময়ই বিশ্বাস করি যেকোনো দলকে হারাতে পারি। কিন্তু ওদের খেলা দেখা মনে হচ্ছিল ওরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। কোচ চলে গেছে, কিন্তু এতদিন যেটা শিখেছে সেটা তো ভোলার কথা না। এখানে তো কোনো ব্যক্তির সঙ্গে খেলা না, দলের সঙ্গে খেলা। ওদের এটাই বুঝিেয়ছি। আমরা খেলছি ভারত–শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। এখানে প্রতিশোধের জন্য খেলছি, সেটি ভাবা ভুল। আমরা দেশের জন্য খেলছি। ওরা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল। পরশু মিটিংয়ের পর ওরা বুঝতে পেরেেছ ওদের কী করতে হবে।’-বলেন নাজমুল হাসান পাপন।







