রেল ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটির জন্যই শুধু নয়, মাঝেমাঝে তুচ্ছ কিছু অসাবধানতার কারণেও ঘটে যায় মারাত্মক রেল দুর্ঘটনা, ঝরে যায় প্রাণ। তাই সাধ্যের মধ্যে রেলযাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ‘গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জারস ফোরাম’।
ঢাকার নিকটবর্তী জেলা গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশন দেশের ঐতিহ্যবাহী একটি রেল স্থাপনা। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকে। সেই স্টেশনকে ঘিরেই গড়ে উঠা ‘গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জারস ফোরাম’ একটি স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। ফোরামটির মূলত গাজীপুর ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী প্রতিটি ট্রেনের আপডেটসহ যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ করতে নানামুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
সম্প্রতি এই ফোরামের উদ্যোগে জংশনের দুটি প্ল্যাটফর্মের প্রায় ১৪৫০ ফুট এলাকা জুড়ে হলুদ রঙের দাগ টেনে সতর্করেখা তৈরি করা হয়েছে।

দু’সপ্তাহ আগে গাজীপুর থেকে ঢাকা চলাচলকারী নিয়মিত যাত্রী প্রকৌশলী মমিন উদ্দিন জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা নীল সাগর ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওইদিনই গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জারস ফোরামের এডমিন প্যানেল রেলযাত্রীদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা আবেদনপত্র প্রকাশ করে, যা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।
অনেকদিন আগে থেকেই হলুদ রঙের সতর্করেখা টানার পরিকল্পনা থাকলেও সহযাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার পরে ফোরামের সদস্যরা দ্রুত এই কাজে হাত দেন। সম্পূর্ণ নিজেদের টাকায় রঙ কেনা ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ কাজে উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ মডারেটর অনিক, অংকুর, ধ্রুব, রিয়াজ, আবু নাইম, তন্ময়, বাপ্পি, আল ওয়াহিদুল, মাসুম, গ্রুপ এডমিন প্রিন্স তামিম, মো. সাইদুর রহমান (নয়ন), মীর মাহবুব আলমগীর, গ্রুপ অ্যাডভাইজার শুভ খান, ফিরোজ আসিফ নবীসহ আরো অনেক সদস্যগণ। এইকাজে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন স্টেশন মাস্টার মো. শাজাহান মিয়া।

গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জারস ফোরামের এই স্বেচ্ছাসেবী জনসচেতনতামূলক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার।
রাত জেগে ফোরাম সদস্যদের উদ্যোগ যে বেশ কার্যকর হয়েছে, তা বোঝা যায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই। দেখা গেছে প্ল্যাটফর্মে থাকা যাত্রীরা সবাই ওই হলুদ রঙের সেফটি লাইনের পেছনে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করছেন। কর্তব্যরত আনসার সদস্যরাও যাত্রীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন সফলভাবে।
বিভিন্ন সময়ের রেলওয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, টিকিটের মূল্য নিয়ে জটিলতা, যাত্রীদের অসচেতনতা, রেলপথে চলাচলে করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়ে ফোরামে জনসচেতনতামূলক লেখালেখি হয়ে থাকে।
এছাড়াও তারা বাঁশি বাজিয়ে ও হ্যান্ড মাইকে যাত্রীদের সর্তক করা, প্ল্যাটফর্মে সেফটি লাইন বা সুরক্ষা রেখা তৈরি করা, ফোরামের জন্য আলাদা ব্লাড ব্যাংক, বিশেষ দিনের (ঈদ, ইজতেমা) জন্য স্পেশাল রেসপন্স টিম, ট্রেনে নারী যাত্রীদের যৌন হয়রানি রোধে কাজ করে থাকেন।
২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যাত্রা শুরু করা ফোরামটির বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ২২ হাজারেরও বেশি। গত প্রায় দুই বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরলসভাবে যাত্রীদের ট্রেনের তথ্যের আপডেট দিয়ে আসছে। ৪ এডমিন এবং ৩১ মডারেটর মিলিয়ে এই ফোরামের দায়িত্বে রয়েছেন মোট ৩৫ জন।
ছবি কৃতজ্ঞতা- গাজীপুর-ঢাকা ট্রেন প্যাসেঞ্জারস ফোরাম ফেসবুক গ্রুপ







