মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজে ৫ মে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার ঘটনায় সন্দেহভাজন অপরাধী হিসেবে এক ক্লিনারকে সনাক্ত করেছে তদন্ত কমিটি। তবে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলার সময় বিক্ষোভের নামে কয়েকজন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পঞ্চম শ্রেণীর যে মেয়েটি যৌন হয়রানির শিকার হতে যাচ্ছিলো তার পিতাও তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন। কমিটির সুপারিশে ক্লিনার গোপালকে স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশ জারি করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটির বরাতে স্কুলের পাবলিক নোটিশে বলা হয়েছে, কিছু বহিরাগত শনিবার স্কুলের ছোট ছোট ছাত্রীর উপর হাত তোলে যা অত্যন্ত নিন্দাজনক। ছাত্রীদের রক্ষার নামে যারা এমন কাজ করেছে তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার।
ভিডিও ফুটেজে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রমাণ থাকলেও স্কুলের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন কিছু অভিভাবক। তাদের একজন সোহেল রানা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য কখনোই এমন ছিলো না যে আমরা বিশৃঙ্খলা করবো। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি। আর আমরা মিজান কমিশনারের নেতৃত্বে ম্যাডামকে নিরাপদে রেখেছি।
তিনি বলেন, ভালো কাজ করতে গিয়ে আমাদের যদি এখন হয়রানির শিকার হতে হয় তবে আমরা ভবিষ্যতে এমন কাজে উৎসাহ হারাবো। সেদিনের ঘটনায় আমরা শংকিত।
তবে অভিভাবকদের বিন্দুমাত্র শংকায় না থাকতে বলেছেন ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এম. তামিম। তিনি বলেন, যারা অন্যায় করেননি তাদের ভয় পাবার কোনো কারণ নেই।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কিছু বহিরাগত শনিবার ছোট শিক্ষার্থীদের উপর হাত তোলে। কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিতও করা হয়।
এ বিষয়ে ড. তামিম বলেন, বহিরাগতরা যে এসেছিলো তা সত্য। আপনারা বিভিন্ন টিভি ফুটেজে তাদের ছবি দেখেছেন।
স্কুলের পাবলিক নোটিশে নতুন কিছু ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে। এরমধ্যে আছে: বিদ্যালয় শাখায় ১২টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, প্রতিষ্ঠানের বালিকা শাখা থেকে সকল পুরুষকর্মীকে স্থানান্তর এবং ছাত্রীদের প্রতিটি বাথরুমের সামনে একজন করে আয়া নিয়োগ।
একইসঙ্গে মহিলা নিরাপত্তাপ্রহরীসহ অনান্য ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করার কথাও বলা হয়।
স্কুলটিতে এখন গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলছে।






