কক্সবাজারের পেকুয়ায় বসতবাড়িতে ডাকাতি ও প্রবাসী নুরুন নবীকে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উত্তরের ঝুম এলাকার নাগু মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন (৩৫) ও নেজাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ কাইছার (২৮) ও নুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ নাসির (২৬) নামে তিন ডাকাত সদস্যকে গণপিটুনী দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এসময় নাসির ছাড়া অপর দু’জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় শিলখালীর পাহাড়ি অঞ্চল সাপের ঘারা ও উত্তরের ঝুম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পেকুয়া হাসপাতালের চিকিৎসক দুই জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পেকুয়া থানা পুলিশ নিহত ডাকাতদের লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি আহত ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আহমদ ছফি, ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিক, জয়নাল আবদীন ও আলী চাঁন বলেন, প্রবাসী নুরুন নবীর বাড়িতে ডাকাতি ও তাকে হত্যার ঘটনাটি খুব মর্মান্তিক। এলাকাবাসী তা মেনে নিতে পারেনি। বুধবার সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতদলের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চালায়। তিন ডাকাতকে স্থানীয়রা পাকড়াও করার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের উপর হামলার চেষ্টা করে। ওই সময় স্থানীয়দের গণপিটুনী শুরু হয়। দু’জন নিহত হয় আহত হয় একজন। পুলিশ ১১টার সময় নিহতের লাশ উদ্ধার পূর্বক আহতকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে শিলখালী ইউনিয়নের সাপেরঘারা এলাকায় প্রবাসী নুরুন নবীর বাড়িতে হানা দেয় একদল সশস্ত্র লোক। তাদের ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারায় মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবক নুরুন নবী। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হয় তার ভাই মোজাম্মেল ও মা হাজেরা বেগম। আহতরা বেশ কয়েকজন হামলাকারীকে চিনে ফেলেন। তাদের দেয়া তথ্যমতে বুধবার সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাপেরঘারা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচটি ঘর ঘেরাও করে। সেখান থেকে ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জামাল উদ্দিন, মো. কাইছার ও নাসির হোসেনকে ধরে নিয়ে গণপিটুনী দেয় তারা।
এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় জামাল উদ্দিন ও মোঃ কাইছার। অপর একজনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশের হেফাজতে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।







