আজ আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস। মেয়ে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভবিষ্যৎসহ সার্বিক সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যেই মূলত বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয় এই দিনটি। ছেলে ও মেয়ে শিশুর মধ্যে অধিকারের সমতা ও বাল্যবিয়ে বন্ধ করার ব্যাপারে চেষ্টা চালানোও এই বিশেষ দিনটির লক্ষ্য।
কিন্তু ২০১৬ সালে এসেও মেয়ে শিশুর সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বে এখনো প্রতি সেকেন্ডে ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়েকে বিয়ে দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসকে সামনে রেখে এমনই একটি তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করল শিশু অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন।
সংস্থাটির সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ওপর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তান, ইয়েমেন,
ভারত এবং সোমালিয়ার মতো বহু দেশে ১০ বছরেরও কম বয়সী মেয়েদের জোর করে তাদের চেয়ে বয়সে অনেক বড় পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হচ্ছে।
বাল্যবিয়ে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে একটি মেয়েকে সব ধরণের সুবিধা ও প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করতে পারে বলে মনে করে সেভ দ্য চিলড্রেন।
সংস্থাটির আন্তর্জাতিক বিষয়াদির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেলি থর্নিং-শ্মিট বলেন, ‘বাল্যবিয়ে প্রতিকূলতার এমন একটি চক্র সৃষ্টি করে যা মেয়েদেরকে শিক্ষাগ্রহণ, উন্নয়ন এবং সর্বোপরি একজন শিশু হিসেবে বেড়ে ওঠার মতো মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত করে।
এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, কম বয়সে বিয়ে দিলে মেয়ে শিশুরা স্কুল চালিয়ে যেতে পারে না এবং অনেক
ক্ষেত্রেই পারিবারিক নির্যাতন, সহিংসতা এমনকি ধর্ষণের শিকার হয়। এরা খুব দ্রুত গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং এদের এইচআইভিসহ নানা ধরণের যৌনবাহিত সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
দ্বন্দ্ব-সংঘাত, দারিদ্র্য এবং বিভিন্ন মানবিক সঙ্কটকে গবেষণায় বাল্যবিয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, যুদ্ধ-বিগ্রহ আক্রান্ত কন্যা শিশুদের বাল্যবিয়ে দেয়ার প্রবণতা বেশি। শরণার্থী পরিবারগুলো নিজেদের বাচ্চা মেয়েগুলোকে দারিদ্র্য আর যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়।
উদাহরণ হিসেবে সেভ দ্য চিলড্রেন ১৪ বছর বয়সী এক সিরীয় মেয়ের উদ্হরণ দেয়, যার একজন ২০ বছরের তরুণের সঙ্গে গত বছর বিয়ে হয়। ১৪ বছর বয়সেই এখন সে দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শুধু তাই নয়, ইবোলা মহামারির মতো মানবিক বিপর্যয়ের সময় সিয়েরা লিয়নে সব স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। এর
ধারাবাহিকতায় ১৪ হাজার কিশোরীর গর্ভধারণের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে মানবাধিকার বিষয়ক এই সংস্থা।
‘এভরি লাস্ট গার্ল’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে স্কুলে পাঠানো, বাল্যবিয়ে, কিশোর বয়সে গর্ভধারণ, মাতৃমৃত্যু এবং সংসদে নারী সদস্যের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের দেশগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় সবার নিচে আছে চাদ, নাইজার, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, মালি এবং সোমালিয়ার নাম।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংগঠন ইউনিসেফের হিসেব অনুসারে, এভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ বিবাহিত মেয়ে শিশুর সংখ্যা ৭০ কোটি থেকে বেড়ে প্রায় ৯৫ কোটিতে দাঁড়াবে।








