প্রতারণার মাধ্যমে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়ার ‘অভিযোগে’ পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়েছেন ক্রিকেটার নাজমুস সাকিব। সিলেটের ওসমানীনগরে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয় দিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলার পর ওই ব্যক্তির ফোনটি বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২৮ বছর বয়সী নাজমুস সাকিব ২০১০ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন। বাংলাদেশ বিমান, সূর্যতরুণ, ব্রাদার্সের মতো ক্লাবে খেলেছেন এ অফস্পিন অলরাউন্ডার। গ্রেপ্তার হওয়ার পর ক্রিকেটার পরিচয়টি গোপন রাখলেও পরে জেরার মুখে স্বীকার করেন।
সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, ‘সে ঢাকায় ক্লাব ক্রিকেট খেলত সেটি আমরা জানতে পেরেছি। কয়েকটি ক্লাবের নামও বলেছে সে। প্রথমত, এএসপি পরিচয় দেয়া ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অপরাধে তার নামে দুটি মামলা হয়েছে। আজ আমরা তাকে কোর্টে সোপর্দ করেছি।’
তিনি আরও জানান, এএসপি পরিচয়দানকারী আবু বকর শাকিল ওরফে নাজমুস সাকিব বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার নজরে আসলে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান সিলেট জেলার ওসামানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নের দশহাল নামক স্থানে শনাক্ত করা হয়। পরে ওসমানীনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুস সাকিব নিজেকে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ৩৭তম (বিসিএস) এ উত্তীর্ণ পুলিশ ক্যাডার হিসেবে পরিচয় দেয়। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা হতে ১ বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে সিলেটে এসেছে বলে দাবি করে। পরবর্তীতে কথাবার্তার এক পর্যায়ে তার প্রদানকৃত বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে আরও ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা নয় মর্মে স্বীকার করে বলে দাবি পুলিশের।
বাংলাদেশ পুলিশের লোগো সম্বলিত একটি ওয়ালেট, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, এক জোড়া হাতের বালা, নগদ টাকা, বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির ৪টি সংযোগ, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল, একটি ৮জিবি মেমোরি কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড নাজমুস সাকিবের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।








