পরিবেশবাদী সংগঠন জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার এবং এ সংক্রান্ত নীতিমালা সংস্করণের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কর্মসূচিটি পালন করে। এ সময় তারা ১৪ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
কর্মসূচিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষার্থী রিপন চন্দ্র রায় বলেন, দেশের বিদ্যুৎখাত থেকে শুরু করে প্রায় সকল যান্ত্রিক ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতেই এ সম্পদ ফুরিয়ে যাবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে। ফলে, জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যাবহার বৃদ্ধির নীতিমালা প্রনয়ন করতে হবে।
জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের পক্ষে ১৪টি দাবি উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নোমান ইমতিয়াজ।
তার উত্থাপিত ১৪টি দাবি হলো- ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি ও পরিকল্পনার প্রণয়ন করতে হবে; প্রস্তাবিত নীতিমালায় ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে মোট ব্যবহার্য জ্বালানির ৩০ শতাংশ, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে শতভাগ নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি ব্যবহারের আইনি বাধ্যবাধকতা প্রণয়ন করতে হবে; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে গ্রহণ করা ২০১০ সালের আইন বাতিল অথবা যথাযথ সংস্কার করতে হবে।
এছাড়া কর্পোরেট স্বার্থ সংরক্ষণকারী যেকোন আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকতে হবে; ২০২৫ ও ২০২৭ সালের মধ্যে যথাক্রমে পাঁচ ও ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে; একই সময়ের মধ্যে কয়লাচালিত সকল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নো-কোল পলিসির মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে।
এছাড়াও ডিজেল-চালিত সেচ পাম্পের ৪০% সৌর-ভিত্তিক পাম্পে রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইন ২০০৩’ পরিমার্জন করে বিইআরসিকে একটি স্বাধীন সিদ্ধান্তগ্রহণকারী শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে; বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাত উন্নয়নে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ ও বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করতে হবে; সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সহজলভ্য করার লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষসমূহের সাথে প্রযুক্তি বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর ও বাস্তবায়ন করতে হবে; জ্বালানি আমদানি চাহিদা ন্যূনতম ১০ শতাংশে হ্রাস করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করতে হবে; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনের লক্ষ্যে এ খাত উন্নয়নে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও ভৌগোলিক স্বতন্ত্রতা বিবেচনায় রেখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী গ্রাম ও এলাকাভিত্তিক সমাজ নির্ভর মডেল গড়ে তুলতে হবে; বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামো আধুনিকায়নের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজলভ্য করতে হবে; বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নামে কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে বাড়ির ছাদ, পতিত জমি এ রূপ জায়গার ব্যবহার করতে হবে; এ খাতের উন্নয়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
নারীদের সুনির্দিষ্ট চাহিদান নীতি প্রণয়ন, পরিকল্পনা এবং অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে; নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে প্রণোদনা দিতে হবে যেন এ খাত বিকাশে গবেষণা ও উদ্যোগে একটি রপ্তানিযোগ্য খাত হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফলে, জাতীয় শিক্ষাক্রমে ব্যবহারিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি সুনিশ্চিত করতে হবে এবং সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের উপর কর রেয়াত এবং প্রণোদনার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় নোমান ইমতিয়াজ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে লুটপাটের উদ্দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রজেক্ট দেখানো হত। ফলে দেশে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছিল। এ প্রকল্পগুল দেশের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। সরকারের প্রতি আহ্বান রইল যেন এ প্রকল্পের পরিবর্তে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে এ দাবিগুলো মেনে নেওয়া হয়। জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের আজকের কর্মসূচিতে সংগঠনটি নেতারা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের প্রায় অর্ধশত শিক্ষা উপস্থিত ছিলেন।








