আধুনিক পদ্ধতিতে দ্রুত জ্বালানি তেল সরবরাহ, পরিবহন সময় ও ঘাটতি কমাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার ‘চট্টগ্রাম হতে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন’ নামের ওই প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
এ প্রকল্পটিতে খরচ হবে ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় সারকারখানাসহ মোট ২০ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন করা হবে ১৫ হাজার ৪৯৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ১১ হাজার ৬৫৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৫ হাজার ৩৭৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনা করে আধুনিক পদ্ধতিতে দ্রুত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা, পরিবহন সময় ও পরিবহন ঘাটতি কমাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করা হবে। এজন্য ‘চট্টগ্রাম হতে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন’ শীর্ষক প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
এটি বাস্তবায়িত হলে স্বল্প সময়ে ও ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। এছাড়া, প্রতিকূল পরিবেশেও চাঁদপুর, ঢাকা ও দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে হবে।
এছাড়া সারের সংকট সমাধানে নরসিংদীর পলাশে ১০ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সার কারখানা নির্মাণ ‘ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রজেক্ট’-এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই কারখানায় প্রতিদিন দুই হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হবে। বার্ষিক উৎপাদন হবে ৯ লাখ ২৪ হাজার টন সার।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- জরুরি সহায়তা প্রকল্প বিআরবি অংশ (কক্সবাজার আশ্রয়গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের জন্য বিদ্যুতায়ন) প্রকল্প। এতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৪ কোটি টাকা।

এছাড়াও রুরাল কানেকটিভিটি ইম্প্রুভমেন্ট (আরসিআইপি) প্রকল্প, বাংলাদেশ ইমারজেন্সি এসিসটেন্স (এলইডি অংশ) প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কেল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠাইন উপজেলাধীন নির্মিতব্য মিঠাইন সেনা উপস্থাপনা-এর ভূমি সমতল উঁচুকরণ, ওয়েভ প্রটেকশন ও তীর প্রতিরক্ষা কাজ প্রকল্প, চট্টগ্রাম জেলাধীন রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং শিলক খালসহ অন্যান্যখালের উভয় তীরের ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্প, রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া ও রংপুর সদর উপজেলায় তিস্তা নদীর ডান তীর ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্প, ক্রস বর্ডার রোড নেটওর্য়াক ইম্প্রুভমেন্ট (বাংলাদেশ) প্রকল্প, গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-বিরামপুর-ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নতিকরণ প্রকল্প, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক (এন-১) উন্নয়ন প্রকল্প, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্প, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি (সংশোধিত ৪৬টি) উপজেলা সদর স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন প্রকল্প, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, শহীদ এম. এনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ শয্যার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সিরাজগঞ্জ স্থাপন প্রকল্প, ১২টি ক্যাডেট কলেজের অবকাঠামোগত সুবিধাদি সম্প্রসারণ প্রকল্প, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলা) প্রকল্প খরচ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫নং গুদারাঘাটের নিকট শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর কদমরসুল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সড়ক কাম বেড়ি বাঁধ প্রতিরক্ষা ও নিষ্কাশন প্রকল্প।








