দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বিচারবিভাগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিচার বিভাগের মধ্যে সেতুবন্ধন স্থাপনের আহবান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত “International Conference on Judiciary Across the Borders (21st Century Challenges and Experiences from the Himalayas and Beyond)” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে এই আহবান জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের প্রথম সেশন শনিবার সকালে ও দ্বিতীয় সেশন শনিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। দুটি সেশনেই সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। বন্ধু প্রতিম দুই রাষ্ট্র- নেপাল ও ভুটানের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ অভূতপূর্ব আনন্দে অভিভূত বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভুটান ও নেপাল কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বাধীনতার স্বীকৃতিদানের ইতিহাস স্মরণ করেন। সেই সাথে প্রধান বিচারপতি ‘পিপলস জুডিশিয়ারি’র ওপর গুরুত্বারোপ করে আমাদের বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।
শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত প্রথম সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইন মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাই দেশে আজ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
প্রথম সেশনের বিশেষ অতিথি ভুটানের হাইকোর্টের বিচারপতি লোবজাং রিনজিন ইয়ার্গে বলেন, ব্যক্তির মানবাধিকার রক্ষায় আইনের শাসন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের মূলভিত্তি। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং সকলেই আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি বাস্তবায়ন করা না হলে আইন ন্যায়বিচারের পরিবর্তে অবিচারের উৎস হয়ে উঠে।
শনিবার সকালের এই সেশনে আরো বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও চট্টগ্রাম বিশব্বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন।

অন্যদিকে, শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, আজকের এই সম্মেলন এই অঞ্চলের জন্য একটি কার্যকরী বিচারব্যবস্থার পথ খুলতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মৌলিক স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্র বলে উল্লেখ করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
দ্বিতীয় সেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নেপালের প্রধান বিচারপতি বিসম্ভর প্রসাদ শ্রেষ্ঠা। যেখানে তিনি নেপালের বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের নানা দিক বর্ণনা করেন। এছাড়া প্রতিটি দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সেই সাথে এ ধরনের সম্মেলন এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিচার ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন নেপালের প্রধান বিচারপতি।
শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সেশনে আরো বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আজমালুল হোসেন (কেসি)।
দুই সেশনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক ও বর্তমান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক সহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তাবৃন্দ।








