ফেতুল্লাহ গুলেনের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তুরস্কের ১৫ হাজারের বেশি
শিক্ষা কমকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সপ্তাহের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের
জেরে রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে চলা শুদ্ধি অভিযান এখনও আরও বিস্তৃত
হচ্ছে।
শুক্রবারের অভ্যুত্থানের জন্য দেশটির সরকার যাকে দায়ী করছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের সাথে বরখাস্তকৃতদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। তবে গুলেন এধরনের কোন কাজের সাথে তার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে আসছেন।
তুরস্কের উচ্চ শিক্ষা বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় হাজারেরও অধিক ডিনের পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রিয় গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।
গুলেনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেয়ার পর নতুন এই ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটলো।
রয়টার্সকে তিনি জানান, আমি দুঃখিত কিন্তু এই সন্ত্রাসবাদী সংস্থা কোন দেশেরই কার্যকরী সহায়ক হিসেবে থাকতে পারবে না। আমরা তাদের শিকড়সহ উপড়ে ফেলবো, যাতে কোন গুপ্ত সন্ত্রাসী সংস্থা আমাদের জনগণের সাথে প্রতারণা করার সাহস না পায়।
এদিকে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ডের জন্য পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস হলে তাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করার ঘোষণা দিয়েছেন। আজই এ বিষয়ে পার্লামেন্ট অধিবেশনে বসতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। সেনা অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার অভিযোগের প্রমাণ চেয়েছে পেন্টাগন।
তুরস্কে ২০০৪ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার পর ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ডের জন্য পার্লামেন্টে যে কোনো সময় প্রস্তাব আনা হতে পারে। প্রস্তাব পাস হলে তাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান স্বাক্ষর করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তাকসিম স্কয়ারে সমবেত ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানকারীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দেশটিতে আবারো মৃত্যুদণ্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।
ইইউ এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকো মোঘেরিনির পাশাপাশি জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যানগেলা মেরকেল তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ফোনে জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড আবারো চালু হলে তুরস্কের ইইউ এর সদস্যপদ লাভের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
সেনা অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার অভিযোগের প্রমাণ চেয়েছে পেন্টাগন। ব্যর্থ সেনা অভুত্থানে জড়িতদের ধরতে এখনও অভিযান চালাচ্ছে সরকারের সেনা ও পুলিশ সদস্যরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৯ হাজার সেনা এবং পুলিশকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়েছে। যাদের মধ্যে ১০৩ জন জেনারেল এবং অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার, যা তুরস্কের উচ্চ সেনা কর্মকর্তাদের এক তৃতীয়াংশ।
শুক্রবারের ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার রক্তাক্ত ঘটনায় ২৩২ জন নিহত এবং ১৫৪১ জন আহত হন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয়।







