নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ফেনীর ফুলগাজীতে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৬টি স্থান ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। পাহাড়ী ঢলে পানিতে ভেসে গিয়ে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ৬ জন মারা গেছে। নিখোঁজ রয়েছে ১ শিশু।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে মাঝারী থেকে ভারী বর্ষণ চলছে চট্টগ্রামে। জেলার সাতকানিয়ার ১৫টি ইউনিয়ন, আনোয়ারার ১১টি, চন্দনাইশের ৭টি, বাঁশখালীর ৮টি, লোহাগাড়ার ৫টি, রাউজানের ৭টি এবং ফটিকছড়ির ১০টি ইউনিয়ন বর্তমানে পানির নিচে।
বন্যার পানিতে সাতকানিয়া ২জন এবং লোহাগাড়ায় ১জনসহ মারা গেছে মোট ৪ জন। ৪দিন ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে চট্টগ্রামের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ। ভেসে গেছে ১৫ হাজার একর জমির ফসল এবং কয়েকশ চিংড়ী ঘের। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দেড়শটন চাল ও সাড়ে ৪লক্ষ নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবদূল জলিল বলেন, বিভিন্ন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষদের আশ্রয় দিয়েছি। বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসো যেখানে উঁচু স্থান রয়েছে সেখানে দুর্গতদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
ফেনীতে মুহুরী নদীর শাহপাড়ায় ৩৫ মিটার ও উত্তর দৌলতপুরে ৪০ মিটার এবং কহুয়া নদীর বৈরাগপুরে ৩০ মিটার এলাকার পর নতুন করে বাঁধ ভেঙেছে শ্রীচন্দ্রপুর, উত্তর জগৎপুর ও দক্ষিণ জগতপুরে।
এ নিয়ে দুই নদীর ৬টি স্থানে ভাঙন ধরায় ডুবে গেছে অন্তত ২৪টি গ্রাম। ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসী এক ব্যক্তি জানান, ফুলগাজি বাজারে যে বন্যা বাধ ছিলো তার নিচ থেকে পানি এসে ফুলগাজি বাজার তিন থেকে চার ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপের কারণে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দেয়া ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবৎ রেখেছে আবহাওয়া অফিস। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বির্পযস্ত কক্সবাজারের জনজীবন।
বন্যা কবলিত এলাকার একজন বলেন, বাড়িতে পাঁচফুটের মতো পানি। আমরা না খেয়ে আছি। রান্না বান্না করতে পারছি না।
বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চকরিয়া, রামু, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের পানি বন্দি হাজার হাজার মানুষ।
ওই এলাকায় মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি অর্পযাপ্ত ত্রাণের কথা জানিয়ে এসব এলাকাকে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানান জনপ্রতিনিধিরা।
চকরিয়া-পেকুয়ার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, আমার এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আহবান জানিয়েছি।






