জুলহাস এবং তনয় হত্যাকাণ্ড দেশে বিদেশে আলোড়ন তুলেছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি থেকে শুরু করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টেও।
গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কলাবাগানে বাসার ভেতরে খুন হয়েছেন ইউএসএআইডি-এর কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয়।
জেনে নেওয়া যাক কে কী বলেছেন।
— প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এটা সুপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড। যারা এর আগে নির্বাচন ঠেকাতে গিয়ে হত্যা করেছে, যারা সরকার উৎখাতের নামে মানুষ হত্যা করেছে ঠিক তারাই এর সাথে সম্পৃক্ত। তারাই এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছে।
— আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: তিনি বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতেই টার্গেট কিলিংয়ের পথ বেছে নিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী। ২০ দলীয় জোটের নির্দেশনায় শিবির থেকে আসা লোকজন বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ব্যানারে এ সব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যার ধরনগুলো দেখে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন, একই গোষ্ঠী টার্গেট করে মানুষ হত্যা করছে। এর আগে বিদেশী নাগরিক তাবেলা সিজারসহ বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা সবাই বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য।
আসাদুজ্জামান বলেন, অতীতে চারদলীয় জোট সরকারের তুলনায় সব কিছুই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

– -এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি): শহীদুল হক বলেন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘরে ঘরে পাহারা দিতে পারবে না। নাগরিকদের নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক থাকবে, সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
— রুহুল কবীর রিজভী, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব: জোড়া খুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দার সাথে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের পাশাপাশি তাদের বিচারের দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।
— মার্শা বার্নিকাট, মার্কিন রাষ্ট্রদূত: তিনি বলেন, মান্নানসহ অন্য তরুণ বাংলাদেশীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছি। জুলহাস আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাজ করতেন। আমরা সৌভাগ্যবান তাকে সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলাম। জুলহাস সহকর্মীর থেকেও বেশি কিছু ছিলো, ও আমাদের কাছের বন্ধু ছিলো।
— জন কেরি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী: কেরি বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়নের জন্য জুলহাস মানবাধিকার আর বাংলাদেশের সম্মান নিয়ে কাজ করতো। নানানভাবে সে বাংলাদেশীদের কর্মদক্ষতা এবং তারা কিভাবে ধৈর্য, শান্তি ও বৈচিত্র্যময়ভাবে নিজেদের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে তা প্রকাশ করতো।
তিনি আরো বলে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে চাই। জুলহাসের কাছে যেসব মূল্যবোধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আমরাও সেগুলোর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকারের জন্য আমরা বাংলাদেশে এবং সারা বিশ্বে কাজ করতে চাই।
— সে. বেন কার্ডিন, ইউএস সিনেট ফরেন রিলেশন কমিটির সদস্য: তিনি এই হামলাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের সমাজে সন্ত্রাসবাদের যে শেকড় গজিয়েছে, তা মূল নির্ণয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উচিত উচ্চস্বরে এবং পরিস্কারভাবে অপরাধীদের বুঝিয়ে দেওয়া যে, অপরাধ যার বিরুদ্ধেই হোক, তারা যে কাজই করুক, যাকেই ভালোবাসুক, যে ঈশ্বরেরই প্রার্থনা করুক, তাদের কারোরই আধুনিক সমাজে জায়গা হবে না।
— জন কিরবি, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র: বলেন, আমাদের দূতাবাস পরিবারের প্রিয় সদস্য ও এলজিবিটি অধিকার, মানবাধিকারের সাহসী সমর্থক জুলহাস মান্নানের উপর বর্বরোচিত হামলায় আমরা ক্ষুব্ধ। এটি অসমর্থনীয় ও অমার্জনীয়। আমরা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ হিসেবে তার জীবন ও কর্মে মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বিশ্বজুড়ে উদযাপন করবো।
— চম্পা প্যাটেল, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক: প্যাটেল বলেন, জুলহাসের হত্যাকাণ্ড বিভীষিকাময় ও নৃশংস। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতির ফলেই এমন হত্যাকাণ্ডগুলো সংগঠিত হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড রোধে কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। নাগরিকের বাঁচার অধিকার সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
– -ড. টমাস পেইঞ্জ, জার্মান রাষ্ট্রদূত: টমাস বলেন, এই বিভিষীকাময় খুনের জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত ও শঙ্কিত। স্পষ্ট ও উদারবাদীদের উপর এই নিপীড়নের নিন্দা জানাই। এটা শুধু দুজন ব্যক্তির উপর আক্রমণ নয়, এটা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতিও আক্রমণ। আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এই ঘটনার দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।







