ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বিজয় দিবসের আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তনে টানা দশ দিন ধরে অনশন করে যাচ্ছে শিক্ষার্থী ওয়ালিদ আশরাফ। দশদিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
সোমবার অনশনস্থলে ওয়ালিদের এই প্রতিবাদী অবস্থানের সঙ্গে সংহতি জানাতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান অনেক শিক্ষার্থী ডাকসুর দাবিতে গান পরিবেশনা করেন। বিকেল সাড়ে চারটায় গান শুরু হয়ে চলে রাত আটটা পর্যন্ত।
গানের পাশাপাশি চলে ডাকসু’র দাবিতে গনস্বাক্ষর কর্মসূচি যেখানে ইতোমধ্যে সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী সই করেছেন। সংহতি জানানো লোকজনের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। অনশনে সংহতি জানানো আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেয়াল লিখন ও পেইন্টিং চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে তারা চিকা মারছেন।

দশদিন ধরে অনশনরত ওয়ালিদ আগের চেয়ে আরও বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি অনশন চালিয়ে যাব। ডাকসু নির্বাচন আটকে রেখে ছাত্র সমাজকে দাবিয়ে রাখা হচ্ছে। আমাদের বুদ্ধিভিত্তিক মুক্তির জন্য ডাকসু প্রয়োজন। আমি চাই বিজয় দিবসের আগে ডাকসু নির্বচনের তফসিল ঘোষণা হবে, বাংলাদেশ নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে। ডাকসু নিয়ে যত সংশয়-জড়তা আছে সেগুলো দূর করতে কাঠামোগতভাবে আগাতে হবে। উপাচার্য মহাশয় যদি চান দ্রুত ডাকসু নির্বাচন হওয়া সম্ভব।
অনশনের দশদিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ডাকসুর ব্যাপারে আমরা সহনশীল। এ বিষয়ে কারও কোন দ্বিমত নেই। এ জন্য তাকে অনশনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। যেখানে সে অনশন করছে সেটা শহীদদের স্মৃতিবিজরিত স্থান, সেটি নিয়েও আমরা কিছু বলিনি। কিন্তু তারা জায়গাটিকে অপবিত্র করছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় নোংরা ভাষায় লেখালেখি করছে, বিতর্কিত স্লোগান দিচ্ছে। এ ধরনের কাজ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না। তারা যদি চায় তাদের দাবি নিয়ে আমাদের কাছে আসতে পারে। আমরা তাদের কথা শুনব।

তিনি আরও বলেন, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না। একাধিক কোর্সে ভর্তি হয়ে সে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে দাবি করছে। এই আন্দোলনের পেছনে ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য আছে। কোনো মহল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে অনুরোধ করছি।
ওয়ালিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে আসা ঢাবি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামীনা লুৎফা বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনেক। বর্তমান ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ডাকসু অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, হাইকোর্ট যেখানে বলেছে সিনেট যথাযথ নিয়মে পূর্ণাঙ্গ করতে সেখানে ডাকসু’র দাবিতে আন্দোলন করতে হবে কেন? এটা প্রশাসনের জন্য লজ্জার। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা। বক্তব্যের এক পর্যায়ে বর্তমান শিক্ষকদের মধ্যে চলা রাজনীতিকে তিনি ‘হালুয়া-রুটির” ভাগাভাগি বলে উল্লেখ করেন।
ওয়ালিদ সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এমএসএস (সান্ধ্যকালীন) কোর্স ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে হিন্দি সিনিয়র ও রাশিয়ান জুনিয়র কোর্সেরও শিক্ষার্থী।








