মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে কেউ হারিয়েছে তার বাবাকে, কেউ হারিয়েছে মাকে। আবার কোনো কোনো শিশু পুরোপুরিই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পরিবার থেকে।
পরিবার বিচ্ছ্ন্নি হয়ে পড়ায় অনেক শিশুই এখন শুধুমাত্র একজনের নিয়ন্ত্রণে, কারো কারো নেই কোনোই দেখভালের লোক। ফলে দেখা যায়, একা বাবা বা মাকে একা হাতে পালন করতে হচ্ছে সবদিকই।
দেশ ছেড়ে আসায় দরকার হচ্ছে ত্রাণ সহায়তার আবার সন্তানদের লালন পালনও করতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে বিপদাপন্ন অবস্থার মধ্যে পড়েছে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেখা মেলে তেমনই একজনের, যিনি কিনা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছেন জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে। কিন্তু একা হওয়ায় সন্তানদের দেখাশোনার কেউ নেই। সেজন্য ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়ালেও দুটি সন্তানকে ঘাড়ে ঝোলানো ঝুড়িতে বসিয়ে রেখেছেন তিনি। এই বাবার নাম আমির আলী।
দুজনের একজন ঘুমের ঘোরে ঢলেও পড়েছে। ইউনিসেফের ফেসবুক পেজে ছবিটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, যেহেতু তার সন্তানদের দেখার মতো কেউ নেই, রোহিঙ্গা পিতা আমির আলী এভাবেই তার দুই সন্তান নাজমা (৬) আর আসমা (২)-কে নিয়ে কক্সবাজারের কুতুপালাং ক্যাম্পের বর্ধিত অংশে ত্রাণের জন্য লাইন দিলেন।
গত ২৫ আগস্টে মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। রোহিঙ্গাদের তো বটেই পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিশুদের বিশেষ সহায়তা দেবার চেষ্টা করছে ইউনিসেফ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলো। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে সুরক্ষা জোন।
রোহিঙ্গা শিশুদের মানসিক বৃদ্ধির দিকেও রাখা হচ্ছে বিশেষ নজর।








