ঠিক যেন প্রথম ইনিংসটাই ফিরে এলো! সতীর্থরা উইকেটে আসছেন। কিছুক্ষণ কাটিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আসা-যাওয়ার এই মিছিলে স্টিভেন স্মিথ একপ্রান্তে অবিচল। আস্থা, আত্মবিশ্বাস আর অবিশ্বাস্য ফর্ম নিয়ে একাই লড়েছেন। তাকে আউট করার পথটাই ভুলে গেছেন ইংল্যান্ড বোলাররা। তারা হতাশায় নুয়ে পড়ছেন মাঠেই। কিন্তু স্মিথ নিজের মতই। প্রথম ইনিংসে তার অবিশ্বাস্য লড়াই অস্ট্রেলিয়াকে দাঁড় করিয়েছিল পাহাড় চূড়ায়। পরের ইনিংসে আরেক লড়াইয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে জয় দেখছে টিম পেইনের দল।
প্রথম ইনিংসে ২১১ করার পর স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরির দুকেই ছুটছিলেন। এবার তার ব্যাটে এসেছে ৮২ রানের ঝলমলে আরেকটি ইনিংস। তাতে প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১৯৬ রানের লিডের সঙ্গে অজিরা ৬ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে যোগ করেছে আরও ১৮৬ রান। ৩৮৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ২ উইকেট হারিয়ে ১৮ রানে চতুর্থ দিন শেষ করেছে ইংলিশরা। ম্যাচটা জিততে শেষদিনে তাদের করতে আরও ৩৬৫ রান। অজিদের ৮ উইকেট নিতে পারলেই চলবে।
হাতে ৫ উইকেট রেখে ২০০ রানে চতুর্থ দিন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। দিনটা শুরু হয়েছিল দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বেন স্টোকস ও জনি বেয়ারস্টোর হাত ধরে। খুব একটা আগায়নি দুজনের ইনিংস। স্টোকস ২৬ ও বেয়ারস্টো ১৭ করে ফিরেছেন লাঞ্চের আগেই। দুজনকেই ফিরিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। প্রথম সেশনে ৮ উইকেটে ২৭৮ রান করে ফলোঅন শঙ্কা মাথায় নিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
মধ্যাহ্ন ভোজের পর কোনরকমে ইংল্যান্ডকে ফলোঅনের থাবা থেকে বাঁচিয়েছেন জস বাটলার। ৪১ করা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন শেষজন হিসেবে। ততক্ষণে ফলোঅন এড়িয়ে ৩০১ রান তুলে ফেলেছে ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসের মতই অবস্থা অজিদের। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার এবারও আউট হয়েছেন কোনো রান না করেই। তার সঙ্গী মার্কাস হ্যারিসের রান মাত্র ৬। প্রথম ইনিংসের মতো মিল এখানেও। দুজনে এবারও আউট হয়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে।
ওয়ার্নার-হ্যারিস ফেরার পর দ্রুত সাজঘরে ফেরেন ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যান মার্নাস লাবুশেন ও ট্রাভিস হেড। তবে স্মিথ ছিলেন। একাই লড়ে গেছেন। দ্রুতলয়ে রান তুলে জ্যাক লিচের বলে যখন আউট হলেন, নামের পাশে ৯২ বলে ৮২। তাড়াহুড়ো না করলে হয়তো ২৭ নম্বর সেঞ্চুরিটা পেয়েও যেতেন।
স্মিথের আউটের পর ইনিংস লম্বা করার আর যুক্তি দেখেননি অজি অধিনায়ক টিম পেইন। শেষ বিকেলের আলোয় ইংল্যান্ডের দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নেয়ার আশায় হাতে চার উইকেট থাকার পরও ডেকে নেন ব্যাটসম্যানদের।
অধিনায়কের সিদ্ধান্ত যে সঠিক সেটা প্রমাণ করেছেন পেসাররা। প্যাট কামিন্সের করা প্রথম ওভারেই টানা দুই বলে ফিরে যান প্রথম ইনিংসের দুই সেরা ব্যাটসম্যান ররি বার্নস ও অধিনায়ক জো রুট। একজনও রানের খাতা খুলতে পারেননি। এরপর দাঁত চেপে কোনরকমে শেষ বিকেলটা পার করেছেন জো ডেনলি ও জেসন রয়।







