রিয়াল মাদ্রিদের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে ধরা হয় তাকে। প্রথমে খেলোয়াড় এবং পরে কোচ হিসেবে সেরা। সাফল্য চূড়ায় থাকা জিনেদিন জিদান অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যখন ফুটবল শুরু করেন তখন পরিস্থিতি মোটেই এখনকার মতো ছিল না।
‘আগেরদিনে খেলার আগে আপনাকে একজন ভালো মানুষ হতে হত। এখনকার মতো তখন বিষয়টা অত সহজ ছিল না। এখন কেউ যদি মনে করে, তোমার প্রতিভা রয়েছে, তাহলে তোমাকে সুযোগ দেবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তারা তোমাকে দলে নেবে। কিন্তু আমি যখন শুরু করি, তখন বিষয়টা তেমন ছিল না।’ এক সাক্ষাতকারে জিদান বলেছেন এমনই।
ছোট থেকেই ভালো ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন জিদান। তার কথায়, ‘ছোট থেকেই আমি ফুটবলার হতে চাইতাম। সেজন্য স্কুলে আমার সমস্যা হত। সেজন্য অবশ্য আমার বাবা-মা আমাকে কখনও বকেননি। কিন্তু, আমি জানতাম, আমার আচরণ সেসময় ঠিক ছিল না।’
‘‘সেসময় একদিন আমার বাবা আমাকে বলেন, ‘আমরা জানি, তোমার মনে একটা কিছু রয়েছে এবং সেটাই তুমি করতে চাও। আমরা চাই, তুমি সেটাই করো।’’ একটু থেমে জিজুর সংযোজন।
একবার বাবা-মায়ের কাছ থেকে এই অনুমোদন পাওয়ার পর আমি সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে ছিলাম আমার স্বপ্ন সত্যি করতে। এরপর আমি কানে (ফরাসি শহর) যাই। সেখানে দেখি অন্যেরা কীভাবে অনুশীলন করছে। তখন আমি নিজে মনে বলি, ‘এটাই আমি করতে চেয়েছি।’
কতটা কষ্ট করেছেন সেই প্রসঙ্গ তুলে জিদানের ভাষ্য, ‘সেইসময় থেকে আমি চেষ্টা করেছি নিজেকে সেরা ফুটবলার হিসেবে তুলে ধরতে। আমি ঠিক মতো পরিশ্রম করেছি, সঙ্গে বিশ্রামও নিয়েছি। কখনও বারে গিয়ে মদ্যপান করে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করিনি। প্রচুর পানি পান করেছি। এভাবেই আমি আমার বাবা-মাকে খুশি করতে পেরেছিলাম। নিজেকেও গর্বিত করেছি।’
ওই সময়ের ফুটবল সংস্কৃতি নিয়ে জিদানের বক্তব্য, ‘তখন নজরে পড়ার জন্য খুব ভালো করে ফুটবলটা খেলতে হত। এখন পরিস্থিতি তেমন নয়। তখন প্রথমে তোমাকে দেখাতে হত, তুমি আর পাঁচজন তরুণ ফুটবলারের থেকে আলাদা। তখন ভালো তরুণ ফুটবলারের সংখ্যাটাও কম ছিল। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। এখন অনেক দ্রুত গতিতে অনেক কিছু হয়। তরুণ খেলোয়াড়রা নিজেদের ভুল নিয়ে অতটা চিন্তিত নয়। কারণ, তারা জানে, তাদের কাছে সুযোগ আবারও আসবে। আমাদের সময় তেমনটা ছিল না।’







