জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ এবং একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে এখনই মন্তব্য করতে না চাইলেও এ বিষয়ে কিছুটা ইঙ্গিতসহ সবিস্তার তুলে ধরেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
শনিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ওবায়দুল কাদের।
এসময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুদ্ধাপরাধের অপরাধে জামায়াত যদি ক্ষমা চায় তাহলে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের অবস্থান কী হবে?
এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন: এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে ক্ষমা চাইলেও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের যে বিচার চলছে তা বন্ধ হবে না। যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচার চলবে।
তিনি বলেন: জামায়াত এখন পর্যন্ত একাত্তরে তাদের কৃতকর্মের কারণে ক্ষমা চায়নি। তাদের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে আলাপ-আলোচনা এবং গুজব-গুঞ্জনের মধ্যে রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি কোনো বক্তব্য আসেনি। তাদের বক্তব্য আসার আগে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগের বিষয়টি আওয়ামী লীগ কিভাবে দেখছে?
এই প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন: এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। সমুদয় বিষয়গুলো (দলের নাম পরিবর্তন এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে ক্ষমা চাওয়া) তাদের দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিলুপ্ত হতে পারে জেনে দলের ভেতর অনেকে সরে যেতে পারে, এটা ওনাদের বিষয়। তাদের ইনটেনশন এখন পর্যন্ত ক্লিয়ার না। ইনটেশন ক্লিয়ার হোক তারপর এ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা যাবে।
তিনি বলেন: নতুন নামে জামায়াত রাজনীতিতে আসলেও তাদের আদর্শ কী হবে সেটাই মূখ্য বিবেচ্য বিষয় হবে। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত (নতুন নামে জামায়াতের বিষয়ে) নেইনি। নতুন বোতলে পুরাতন মদ যদি আসে, তাহলে পার্থক্য কোথায়? জিনিস তো একটাই। নতুন নামে একই আদর্শ নিয়ে আসলে পার্থক্য কোথায়? নানা কথা এখন মিডিয়াতে আসছে, এটা একটা সময় শেপ নেবে। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে কেন মন্তব্য করবো?
জামায়াতে ইসলামী যখন নিষিদ্ধের আলোচনায়, তখন হঠাৎ ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসা তাদের রাজনৈতিক কৌশলও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো পদত্যাগ পত্রে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেছেন: জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি এবং একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতার আলোকে এবং অন্যান্য মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বিবেচনায় এনে নিজেদের সংস্কার করতে পারেনি।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক লিখেছেন: ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি এবং এখনও করি যে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে নেতিবাচক ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয় বরং তৎপরবর্তী প্রজন্মকে দায়মুক্ত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি কর্তব্য।’
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও লিখেছেন:অতীতে আমি অনেকবার পদত্যাগের কথা ভেবেছি। কিন্তু এই ভেবে নিজেকে বিরত রেখেছি যে, যদি আমি অভ্যন্তরীণ সংস্কার করতে পারি এবং একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াত যদি জাতির কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে তা হবে একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিন্তু জানুয়ারি মাসে জামায়াতের সর্বশেষ পদক্ষেপ আমাকে হতাশ করেছে।
একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে দলের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তিনি পদত্যাগ করলেও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান বলেছেন: ব্যারিস্টার রাজ্জাক যেখানে আর যেভাবেই থাকুন, তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ‘মহব্বতের সম্পর্কই’ থাকবে।








