জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘মুক্তিযুদ্ধের জন-ইতিহাস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ছিলো জনতার যুদ্ধ। ৩০ লক্ষ লোকের প্রাণহানি যে যুদ্ধে ঘটে, সেই যুদ্ধকে জনযুদ্ধ ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না। কৃষক-কৃষাণী, মজুর-শ্রমিক সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষ এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।’
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের যৌথ আয়োজনে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দেশের আপামর জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেছেন। কৃষক-কৃষাণী, মজুর-শ্রমিক সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। এমন জনযুদ্ধ করে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেনি। এই জনযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে।’
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিলো জনতার যুদ্ধ। ৩০ লক্ষ লোকের প্রাণহানি যে যুদ্ধে ঘটে, সেই যুদ্ধকে জনযুদ্ধ ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না। বঙ্গবন্ধুর কথায় বাংলার জনসাধারণ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।’
তিনি বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনসাধারণকে এক এবং অভিন্ন হিসেবে অভিহিত করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘ইতিহাসকে জনগণের কাছে নিতে হবে। জনগণকে কেন্দ্র করে ইতিহাস চর্চা করতে হবে। জনগণ ইতিহাসের অংশ। তাই ইতিহাস রচনায় জনগণের কথা থাকতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আরিফা সুলতানার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এটিএম আতিকুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাহিদুল ইসলাম এবং কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশের যুদ্ধশিশু বিষয়ক গবেষক মুস্তাফা চৌধুরী।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে ৯টি পর্বের মোট ৪০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক এবং ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ অংশগ্রহণ করেন।







