ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অপুষ্টির শিকার কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শিশু। অনেক নারী ও বৃদ্ধদের শরীরেও বাসা বেঁধেছে ভয়ঙ্কর রোগ। রোগির তালিকায় প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে প্রায় দুইশ’ জন। চিকিৎসকরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট এলাকায় রাখা না গেলে সারাদেশেই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের অসুস্থ্য এসব রোগীদের প্রতিদিন বিভিন্নভাবে নেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়াসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে এমন দৃশ্য এখন প্রায়শই চোখে পড়ে।
কুতুপালং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার বাবুল কান্তি বড়ুয়া জানান, রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের এমনসব রোগে আক্রান্ত যার সঙ্গে সচরাচর এদেশের মানুষের পরিচয় নেই। এসব রোগীদের মধ্যে মরণব্যাধী এইডসের দিকেও ইঙ্গিত ছিল তার।
‘এখানে রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগ ভুগছেন জ্বরে এরপর ডায়রিয়া রোগে। বি ভাইরাস, সি ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা নারী ও বৃদ্ধ।’
তিনি আরও জানান, কুতুপালং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসে ৭শ’রও বেশি রোগী। এদের মধ্যে গর্ভবতী মায়েরা আছেন চরম ঝুঁকিতে।
শুধু কুতুপালং-এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই নয়, এখানকার সবগুলো কেন্দ্রেই রোগীতে ঠাঁসা। চিকিৎসকরা বলেছেন, জ্বর, ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ছাড়াও গুলি ও বোমার আঘাতে আহত রোগীদের অবস্থা খুবই নাজুক।
অন্যদিকে ইউনিসেফ বলছে, মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে তিন লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, এর মধ্যে ২ লাখই শিশু। তাই এখনই যদি বাংলাদেশ সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে অনেক রোগ কক্সবাজারসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যেটা বাংলাদেশের জন্যও আতঙ্কের বিষয়।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:







