টেস্ট আঙিনায় পা রাখার ২৪ বছরে ভারতের বিপক্ষে দুই বার ড্র করেছে বাংলাদেশ। অবশ্য তা বৃষ্টির কল্যাণে। ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ও ২০১৫ সালে ফতুল্লায় ফল হয়নি। বাকি ১২ টেস্টে একতরফা ছড়ি ঘুরিয়েছে ভারত। এবার কানপুরের চিত্র অনেকটা চট্টগ্রাম ও ফতুল্লার মতেই। প্রথম দিন মাত্র ৩৫ ওভার খেলা হয়েছে আর দ্বিতীয় দিনের একটা সেশন চলে গেছে বৃষ্টির পেটে।
টিম হোটেলে ফিরে গেছে দুই দল। এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও ঝরছে বৃষ্টি। পুরো দিনের খেলাই কেড়ে নিতে পারে বৈরি আবহাওয়া। ভারতের বিপক্ষে তৃতীয়বার টেস্ট ড্র করার হাতছানি টাইগারদের সামনে।
তাতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও লাভবান হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পূর্বাভাস অনুযায়ী কানপুরের আবহাওয়া রাতারাতি ভালো হওয়ার আশা করাটা কঠিন।

কেমন ছিল ভারতের বিপক্ষে প্রথম ড্র
চট্টগ্রাম, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম (১৮-২২ মে, ২০০৭)
সাকিব আল হাসানের অভিষেক টেস্ট ছিল এটি। তিন টেস্টে ভারতের কাছে স্রেফ উড়ে যাওয়ার পর চতুর্থ দেখায় প্রথমবার ড্রয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। বন্দরনগরীর সাগরিকায় স্থাপিত রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে নাম পরবর্তীতে বদলে করা হয় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। যেখানে প্রথম দিনের মাঝপথে কিছুটা সময় বৃষ্টিতে নষ্ট হয়।

দিনের খেলা হয় ৭৭ ওভার। ভারত ৩ উইকেট হারিয়ে ২৯৫ রান তোলে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হতে বিলম্ব হয় অনেকটা। ৬ উইকেটে ৩৮৪ রানে দিন শেষ করে ভারত।
বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে তৃতীয় দিন খেলাই মাঠে গড়ায়নি। চতুর্থ দিনের সকালে দ্রুত ২ উইকেট হারালে ৮ উইকেটে ৩৮৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে রাহুল দ্রাবিঢ়ের দল। শচিন টেন্ডুলকার ও সৌরভ গাঙ্গুলি করেন জোড়া সেঞ্চুরি। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নেন ৪ উইকেট।
শাহাদাত হোসেন রাজিব নেন তিন উইকেট। অভিষেক টেস্ট ইনিংসে উইকেটহীন ছিলেন সাকিব। ব্যাট হাতে মাশরাফী খেলেন ৯১ বলে ৭৯ রানের ইনিংস। লোয়ার অর্ডারে শাহাদাত ৩১ রান উপহার দিলে ২৩৮ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
১৪৯ রানে এগিয়ে থাকা ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তুলে চতুর্থ দিন শেষ করে। ভেজা মাঠের কারণে শেষ দিনের প্রথম সেশনের খেলা হয়নি। পরের সেশনে ২ উইকেটে ১০৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশ পায় ২৫০ রানের অসম্ভব এক লক্ষ্য।

জাভেদ ওমর বেলিংমের অপরাজিত ফিফটিতে ২ উইকেটে ১০৪ রান তোলার পর ড্র মেনে নেন দুই দলের অধিনায়ক। বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া হাবিবুল বাশার সুমন ৪৯ বলে ৩৭ রান করেন। দুই ইনিংসে ৫ উইকেট
ও দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করে ম্যাচসেরা হন মাশরাফী।
ফতুল্লা, খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম (১০-১৪ জুন, ২০১৫)
প্রথম চার দিন বৃষ্টির রাজত্বই চলেছে। বার বার খেলায় বিরতি পড়েছে। চার দিনেও দুই দলের একটি করে ইনিংস শেষ করা যায়নি। মাঠকর্মীদের ব্যস্ততা ছিল ম্যাচজুড়ে। ক্ল্যাসিক ব্যাটার লিটন দাসের অভিষেক হয়েছিল সেই ম্যাচে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে অলআউট করার লক্ষ্যে ৩০ ওভার পেয়েছিল ভারত। ১৫ ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেয়ে হাল ছেড়ে দেয় বিরাট কোহলির দল।

ফলো-অনে পড়া বাংলাদেশকে হারের মুখ থেকে বাঁচিয়ে দেয় বৃষ্টি। মুরালি বিজয় ও শিখর ধাওয়ানের ওপেনিং জুটির ২৮৩ ভারতকে নিয়ে যায় চালকের আসনে। বার বার বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার দরুণ সময় নষ্ট হয়। ভারত ৬ উইকেট হারিয়ে ৪৬২ রান তোলার পর প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে।
জবাবে ইমরুল কায়েসের ৭২ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ আড়াইশ পেরোয়। লিটন ৪৫ বলে খেলেন ৪৪ রানের ইনিংস। তাতে ২৫৬ পর্যন্ত যেতে পারে স্বাগতিকরা। ফলোঅন এড়াতে প্রয়োজন ছিল আর ৭ রান।
৮৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অন্য অফস্পিনার হরভজন সিং ৩ উইকেট নেন ৬৪ রানে।
ছবি কৃতজ্ঞতা: ক্রিকইনফো







