দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতে ভ্যাট বসানো উচিৎ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের চেয়ারম্যান ড.ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। একইভাবে ফ্ল্যাটের ওপরও ভ্যাট না বসানোর পরামর্শ দেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) প্রতিনিধি, বাংলাদেশে পিডব্লিউসির পার্টনার ইনচার্জ মামুন রশীদ প্রমুখ।
সার্বজনীন ভোগ্যপণ্য বা সেবা বিশেষ করে গ্যাস-বিদ্যুতে ভ্যাট না নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এসব ক্ষেত্রে ভ্যাট বা মূসক তুলে দিতে পারলে ভালো। আর যদি সম্ভব না হয় তাহলে কমিয়ে আনা প্রয়োজন এবং ফ্ল্যাটের ওপর ভ্যাট না বসালে ভাল হয়।
ভ্যাট আইন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন,আগামী জুলাই মাসে ভ্যাট আইন চালু হবে। এটা কিভাবে প্রয়োগ হবে তা দেখার বিয়ষ। কারণ ভ্যাট সম্পর্কে অনেকগুলো আইন হচ্ছে। তবে আইন যতই সুন্দর হোক না কেন তার বাস্তবায়ন না হলে নতুন আইন করে লাভ হবে না। আইনের কতটুকু প্রয়োগ হচ্ছে সেটাই লক্ষ্যনীয়।
ভ্যাট যারা দিচ্ছেন তা সরকারের কাছে যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। অনেক সময় বড় বড় দোকানে অস্পষ্ট ক্যাশমেমো দিয়ে ভ্যাট নেয়। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, ক্রেতা যে ভ্যাট দেন তা এনবিআরের কাছে জমা হয়।
আয়কর প্রদান অনলাইনের আওতায় আনার কারণে নিবন্ধনের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা ভাল হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ওই করদাতার মাধ্যমে কতটুকু আয় হবে সেটা মনিটরিং করতে হবে। ভ্যাটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কতজন ব্যবসায়ী ভ্যাট দেয়ার যোগ্য, আর কতজন ব্যবসায়ী নিবন্ধন নিলেন এ বিষয়ে এনবিআর কিংবা সরকারের পর্যাপ্ত গবেষণা নেই। এ বিষয়টা জোর দেওয়া উচিত।
অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমানে কর না দেওয়া এক ধরণের বাহাদুরী মনে করা হয়। ভবিষ্যতে এমন পরিবেশ তৈরী করতে হবে যাতে কর ফাঁকিবাজরা অপরাধবোধে ভোগেন।
গতকাল রিহ্যাবের কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চাওয়ার প্রসঙ্গে প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন,আয় বৈধ কিন্তু প্রদর্শন না করে করদাতা আয়কর দেননি,এমন অর্থকে কালো টাকা বলা যাবে না। কারণ করদাতার আয় বৈধ, তিনি হয়ত আগে আয় প্রদর্শন করেননি। ওই অর্থ দিয়ে যদি করদাতা কিছু ক্রয় করতে চান তাহলে সেটাকে কালো টাকা না বলে অপ্রদর্শিত আয় বলাটাই যুক্তিসঙ্গত। কারণ পরবর্তী সময়ে করদাতা অপ্রদর্শিত ওই আয়ের কর ঠিকই পরিশোধ করছেন।
তবে এ অর্থ শুধু আবাসন খাতে নয়, যে কোনো খাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন,পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিগুলোর করের ব্যবধান বাড়ানো দরকার। এতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। তবে সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নজিবুর রহমান বলেন,করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে আমরা সিঙ্গেল উইনডো সেবা চালু করতে যাচ্ছি। ডিজিটাল বাংলাদেশে আয়কর,ভ্যাট ও শুল্ক প্রতিটি বিভাগ ডিজিটালাইজ করার পথে এগুচ্ছে এনবিআর।








