ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বিগত সরকারের শেষের দিকে গ্রহণ করা হয়েছিল। মাদকবিরোধী অভিযানে এখন আর ব্যাপক ক্রসফায়ার না থাকলেও জিরো টলারেন্সের সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজারের টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে ১০২ জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির তিন ভাই শফিক, আমিন ও ফয়সাল, ভাগিনা নিপু এবং কামাল, খালাতো ভাই মন মন সেন রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি সর্বশেষ তালিকায় গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত ৭৩ জনের মধ্যে অন্তত ৩০ জন আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া ১০২ জনের সবাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী।’
ইয়াবা ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের আমরা সাধুবাদ জানাই। এছাড়া ইয়াবাসহ যেকোনো ধরনের মাদকের ব্যবসা করে এখন আর পার পাওয়া যাবে না, অপরাধীদের মধ্যে এমন চিন্তার উদ্রেক করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও আমরা অভিনন্দন জানাই। এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ইয়াবার ছোবল থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পাবে বলেই আমরা মনে করি।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এ বিষয়ে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। আত্মসমর্পণকারী এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীদের যেভাবে কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে, ঠিক একইভাবে এসব ব্যবসায়ীর শূন্যস্থান যেন নতুন অপরাধীরা পূরণ করতে না পারে সেই বিষয়েও যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নাহলে এই আত্মসমর্পণের কোনো মূল্য থাকবে না বলেই আমরা মনে করি।
আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার বড় অভিযোগ ছিল। আত্মসমর্পণের এই তালিকায়ও তার নিকটাত্মীয়রা রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদিও তাকে মনোনয়ন দেয়নি, তবুও স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব এখনও রয়েছে। তাকেও কঠোর নজরদারিতে রাখা উচিৎ বলে আমরা মনে করি। কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে আওয়ামী লীগ, সরকার এবং জনগণের বিন্দুমাত্র ক্ষতি সাধন করতে দেওয়া হবে না বলেই আমরা আশা করি।







