গত শুক্রবার বাজারে আসার পর থেকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠেছে স্মার্টফোনে খেলার উপযোগী অগমেন্টেড রিয়েলিটি বা উদ্দীপিত বাস্তবতাভিত্তিক গেম ‘পোকেমন গো’। উদ্বোধনের প্রথম সপ্তাহেই শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৫.১৬ শতাংশ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ইনস্টল করা হয়েছে গেমটি।
কিন্তু খ্যাতির যে বিড়ম্বনাও রয়েছে, পোকেমন গো সেটাই আবার প্রমাণ করল। গেমটি স্মার্টফোনের ক্যামেরার মাধ্যমে সামনে থাকা এলাকা এবং জিপিএস-এর দেয়া তথ্য মিলিয়ে বাস্তব অবস্থানেই পোকেমন নামের বিভিন্ন শক্তির অধিকারী প্রাণী খুঁজতে হয়।
সেসব প্রাণী খুঁজতে খুঁজতে অনেকেই এদিক সেদিক ছুটতে গিয়ে বেখেয়ালে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন। এক আমেরিকান নারী তো বাসার কাছের নদীর ধারে পোকেমন খুঁজতে গিয়ে একটি মৃতদেহই পেয়ে গেলেন!
গেমটিতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা, ভাষ্কর্য এবং ঐতিহাসিক স্থানে বিশেষ বোনাস আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই সেসব পেতে পোকেমন গো গেমাররা ছুটছেন সেসব জায়গায়। তবে এতে বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থানের মর্যাদা এবং পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ সেসব জায়গায় গিয়ে গেমটি না খেলতে জনগণকে অনুরোধ জানিয়েছে।
ইউএস হলোকাস্ট মিউজিয়াম ও আরলিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে গেমটি থেকে এই দু’টি স্থানকে সরিয়ে নিতেও বলেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিনটেন্ডোকে।
শুধু তাই নয়, গেমটিতে উল্লেখ করা জায়গাগুলোতে ওঁৎ পেতে থাকছে ডাকাত আর সন্ত্রাসীরাও! গত সপ্তাহে এমনই কয়েকটি ঘটনায় ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করে ও’ফ্যালন মিসৌরি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। এ ঘটনার পর নিনটেন্ডো অপরিচিত বা নির্জন জায়গায় কয়েকজন একসঙ্গে গিয়ে খেলার পরামর্শ দেয়।
এছাড়া আর কোনো দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য রাস্তাঘাটে গেম খেলার সময় সাবধানে চলাফেরা করতে অনুরোধ করেছে কোম্পানিটি।
এখন পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে পোকেমন গো পাওয়া যাচ্ছে। অপেক্ষায় আছে ইউরোপ আর জাপান। পশ্চিমের জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ টিন্ডার-এর দ্বিগুণ পরিমাণে ইনস্টল হয়েছে গেমটি।
এমনকি প্রতিদিন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের চেয়েও বেশি চলছে এটি। এক সপ্তাহেই নিনটেন্ডোর শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৬ শতাংশ।







