জহুর আহমেদে গোধূলি আলোয় খানিকটা উত্তেজনা। ম্যাচ নিয়ে তো বটেই, তারচেয়ে বেশি টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরিটা মুশফিকুর রহিম পাবেন কিনা সেটি ঘিরেই। মাঠে উপস্থিত হাজারখানেক দর্শকের হৈচৈ বেড়ে যায়। দলের লাগবে তখন ২ আর সেঞ্চুরি পেতে ৪ রান। শেষপর্যন্ত মালিকের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরেছেন খুলনা টাইগার্স অধিনায়ক। তার আগে কাজের কাজটা সেরে এসেছেন। ‘ক্যাপ্টেন্স নকে’ রানপাহাড় টপকে নিশ্চিত করেছেন দারুণ এক জয়।
১৮৫ বা তার বেশি তাড়া করে বিপিএলে জয়ের রেকর্ড ছিল কেবল সাতটি। ঢাকা পর্বে যা অবস্থা ছিল তাতে রাজশাহী রয়্যালসের দেয়া ১৮৯ রান টপকে হেসেখেলে জয় তুলবে খুলনা টাইগার্স এমন ভাবনা কঠিনই ছিল। চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচে সেটাই করে দেখিয়েছে দলটি। বড় লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে ছেড়েছে খুলনা। অধিনায়ক মুশফিকের ক্যারিয়ার সেরা ৯৬ রানে ভর করে ২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলেছে টাইগার্সরা।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ২৫ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় খুলনা। রাজশাহী অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেলের দারুণ ইয়র্কারে ইনিংসের দ্বিতীয় বলে কোনো রান না করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। পরে ৭ রান করে আরেক ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ফিরে গেলে বিপদে টাইগার্সরা। এমন অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলেন মুশি।
খুলনার ঘুরে দাঁড়ানোর পথে ৫৩ বলে ৭২ রানের জুটি গড়ে রাজশাহীর বোলারদের চোখে চোখ রেখে কথা বলা শুরু রাইলি রুশো ও মুশফিকুর রহিমের। দুজনের পাল্টা আক্রমণে নড়ে যায় রাজশাহীর মনোবল।
৩৫ বলে ৪২ করে রুশো আউট হলেও মুশফিককে ফেরাতে না পারাই কাল হয়েছে রাজশাহীর। ৩০ বলে ফিফটি তুলে নেয়া মুশফিক রুশোকে হারিয়ে হয়েছেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক। পরের ২১ বলে করেছেন বাকি ৪৬ রান।
দিনশেষে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ হয়ত থাকবে খুলনা অধিনায়কের। যথেষ্ট সুযোগ ছিল মাইলফলক ছোঁয়ার। তখন বল বাকি তিনটি। একটা চার মারলেই হয়ে যেত, মুশি সেটাই হয়তো করতে চেয়েছিলেন। বোপারাকে মারতে গিয়ে লংলেগে শোয়েব মালিকের হাতে ধরা পড়লেন। ৪ ছক্কা ও ৯ চারের পরে আক্ষেপ হয়ে থাকে আরেকটি বাউন্ডারি না পাওয়ার! ফিরেছেন ৯৬ করে।
আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৬ রানে দ্বিতীয় ও ৬৬ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারানো রাজশাহী বড় সংগ্রহ গড়ে দুই বিদেশিতে ভর করে। শোয়েব মালিক ও রবি বোপারার ১০৬ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিতে খুলনার ঘাড়ে রানের বোঝা চাপায় রয়্যালসরা।
ভয়ঙ্কর রকমের মারমুখি ছিলেন শোয়েব মালিক। ১৭৪ স্ট্রাইকরেটে ৫০ বলে ৮৭ করে আউট হয়েছেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। চার মেরেছেন ৮টি, ছক্কা তার চেয়ে চারটি কম।
বোপারাও কম যাননি। তাকে আউট করা সম্ভবই হয়নি খুলনার বোলারদের। সমান দুটি করে চার-ছক্কায় ২৬ বলে ৪০ করেছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার।







