বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে সরকার তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, দেশ এক ব্যতিক্রমী দুঃশাসনের মধ্যে নিপতিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধ্বজাধারীরা মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডারের সহধর্মিনী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের আলো-বাতাসহীন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী করে রেখেছে। আর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে জাতীয় সংসদে অনুগত বিরোধী দলীয় নেতা বানানো হয়েছে।
শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত কারাগারের স্যাঁতস্যাঁতে কারা প্রকোষ্ঠে। আর মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার রিক্রুটমেন্টের দায়িত্বে নিয়োজিত ডিসি-কে করা হয়েছে নানাভাবে পুরস্কৃত। তাকে কখনও মন্ত্রী বা কখনও এমপি বানানো হয়েছে। রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের স্ত্রীকে প্রতিহিংসাবশত সাজা দেয়ার জন্যই মিথ্যা মামলা বানিয়ে এখন কারাগারে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেও শুধুমাত্র ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের আত্মীয় হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন মন্ত্রী ও এখনও এমপি করা হয়েছে একাধিক জনকে। অথচ বীর সেক্টর কমান্ডারের সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাকে কারাগারে যাপন করতে হচ্ছে দুর্বিষহ জীবন।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের জন্য আধুনিক চিকিৎসার সকল আয়োজনই মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন হয়। আর স্বাধীনতার ঘোষকের সহধর্মিনী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলেও তাকে দিনরাত কাটাতে হয় কীটপতঙ্গে ভরা ধুলাধুসরিত অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। দেশের ভিতরে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে।’
রিজভী আরো বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সকল মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত, নিপীড়িত ও নির্যাতিত, বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকা এক অসহায় নারী। মনে হয়, এভাবে তাকে তিলে তিলে হত্যারই ষড়যন্ত্র করছে সরকার। আসলে যে শাসনে মানবতার ভিত্তি নেই সেই শাসনই অপশাসন এবং এই ধরণের শাসনে জনপ্রিয় নেতা-নেত্রীদেরকে আটকে রাখা হয় মনুষ্যবিহীন ভীতিপ্রদ গুমোটপূর্ণ কারাগারে, দেশে দেশে সেটির বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। আওয়ামী রাজনীতিতে মনন বিবেচনা নেই, ন্যায়বিচারবোধ নেই, নির্মাণ ও সৃষ্টি নেই, আছে শুধু অবিরল সন্ত্রাস দখল, জাল-জালিয়াতি ও রক্তপাত, আর উচ্চবৃত্তির আধিপত্য।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘মিডনাইট নির্বাচনের হোতা আপনি। আদর্শগত শূন্যতার কারণে আপনি এত বড় অন্যায়টি করেছেন জনগণের বিরুদ্ধে। এটি অবৈধ সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নীতি বাস্তবায়ন করতেই আপনি মহাভোট কেলেঙ্কারীর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করলেন। আপনার এই বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকল জাতির কাছে। আপনি ২৯ ডিসেম্বর রাতে স্বচ্ছ জালিয়াতি ও মহাকারচুপির ভোট সেরে ফেলেছেন। তবে মনে রাখবেন, পাপ কখনও বাপকেও ছাড়ে না। আমজনতার কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতেই হবে।’
সরকার এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনেও মিডনাইট ভোটের পদ্ধতি অবলম্বন করছে এমন অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘গত পরশুদিন ঢাকা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাত দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন নজীরবিহীন। ব্যাপকভাবে জালভোট প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে সাত দিনের ব্যবধান করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের দিন সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিএনপি প্যানেলের কমিশনার, যে ভোট গণনার দায়িত্বে থাকে, তাকে প্রচন্ড মারধর করা হয়েছে। তাছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে একজন কট্টর আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মোখলেসুর রহমান বাদলকে।
তিনি বলেন, নানাভাবে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা জেলা বার সমিতির নির্বাচন। সরকার এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনেও মিডনাইট ভোটের পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সাধারণ জনগণের মতো বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও এখন বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত। প্রহসনের পর প্রহসন এবং তামাশার নানা অভিনবত্ব অবলোকন করছে দেশবাসী।







