কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণাকে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জের সুযোগ কম মন্তব্য করে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই।
তীব্র আন্দোলনের মুখে বুধবার জাতীয় সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই ঘোষণা বিষয়ে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলছেন, অনগ্রসরদের জন্য সুবিধার বিধান করতে আইনি বাধা নেই; সংবিধান সেই ক্ষমতা রাষ্ট্রকে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্ত আইনিভাবে মোকাবিলার সুযোগ তেমন একটা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো রকমেই অন্য কেউ বলতে পারবে না যে, কোটার মধ্য দিয়ে তাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে এটা দেয়া যাবে না। বরং আমাদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগ, মৌলিক অধিকার এই ক্ষমতা রাষ্ট্রকে দিয়েছে।’
সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সংসদে প্রধানমন্ত্রী যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেখানে সংবিধানের এই বক্তব্যেরই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এ আইনমন্ত্রী।

তার মতে, এ জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন নেই।
তবে আইনবিদ ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, ৫৬ ভাগ এবং শূন্য কোটা – দু’টোই তার দৃষ্টিতে অস্বাভাবিক।
তিনি বলেন, আমাদের আশপাশের দেশ থেকে শুরু করে সব দেশেই কোটার একটা ব্যবস্থা আছে ওই স্বীকৃতিস্বরূপ যে, সমাজের কিছু জনগোষ্ঠী অনগ্রসর রয়েছে। তাদের বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।
কয়েকদিন ধরে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন।
এ দিন বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কোটা বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোটা থাকলেই আন্দোলন হবে, আজ এরা-কাল আরেকজন আসবে। এর থেকে আমি মনে করি কোটা পদ্ধতিই বাতিল করাটাই ভালো হবে।’

এ সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখে সরকারি চাকরিতে কোটা না রাখার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নারীসহ তরুণ শিক্ষার্থী এবং জেলা পর্যায়েও শিক্ষার্থীরা যেহেতু কোটা চায় না, তাই কোটা পদ্ধতি রাখার দরকার নেই। সেই সঙ্গে, আন্দোলনকারীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ শেষে ভাষণ ও সংবিধান পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সকালে কোটা বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। একই সঙ্গে কোটা বাতিল করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দনও জানানো হয়।








