প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের দামামা যেন বাজছে আবারো। কী হতে পারে তাদের মধ্যে সত্যি সত্যি কোন যুদ্ধ শুরু হলে? চির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত এই দুই প্রতিবেশী দেশের হাতেই রয়েছে ভয়ানক পারমাণবিক অস্ত্র, যা নিয়ে শঙ্কা বিশ্বজুড়ে।
দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী জাইশ-ই-মোহাম্মদী’র হামলায় ৪২ জন ভারতীয় সৈন্য সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে। এরপর একে অপরকে প্রতিদিনই আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের হুমকি অব্যাহত রাখে দুই দেশ। সর্বশেষ ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখার (লাইন অব কন্ট্রোল) ভেতরে ঢুকে ১ হাজার কেজি বোমা বর্ষণ করেছে, এতে প্রায় ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেছে ভারত। যদিও ভারতীয় জঙ্গি বিমানের হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে পাকিস্তান।
দুই দেশেই তাদের সামরিক খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে। দুই দেশ ঠিক যুদ্ধের জন্য কতোটা প্রস্তুত? তাদের সক্ষমতা বা অস্ত্র-শস্ত্রই বা কেমন? এ নিয়ে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা একটি প্রতিবেদন করেছে।
সামরিক ব্যয়
ভারতের বর্তমানে সৈন্য রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ আর পাকিস্তানের ৬ লাখ ৫৩ হাজার। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত ২০১৮ সালে সামরিক খাতে বরাদ্দ করেছিল চার ট্রিলিয়ন রুপি (৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। যা তাদের মোট জিডিপি আয়ের ২ দশমিক ১ ভাগ। অন্যদিকে পাকিস্তানের বরাদ্দ ছিল ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা তাদের জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
স্টকহোম ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের( এসআইপিআরআই) হিসেব অনুসারে ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার তার মোট বার্ষিক ব্যয়ের ২০ ভাগের বেশি সামরিক খাতে ব্যয় করতো। তবে ২০১৭ সালে তা নেমে আসে ১৭ শতাংশে।
তবে শতাংশের হিসেবে ভারত খানিকটা পিছিয়ে এক্ষেত্রে। ২০১৮ সালে ভারত সরকার তাদের মোট ব্যায়ের ১২ শতাংশ করেছে সামরিক খাতে। আর ২০১৭ সালে তা ছিল ৯ দশমিক ১ ভাগ।
অগ্নি- ব্রহ্মা বনাম শাহিন
ভারতের হাতে আছে অন্তত ৯ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র। যা দিয়ে প্রায় ৩০০০ থেকে ৫০০০ কিলোমিটার দূরের বস্তুকে আঘাত হানতে সক্ষম। যাদের নাম করণ হয়েছে অগ্নি-৩, ব্রহ্মা। অপরদিকে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র শাহিন-২ প্রায় ২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানতে পারে।
পারমানবিক শক্তি
পাকিস্তানের ১৪০ থেকে ১৫০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র আছে। আর ভারতের আছে ১৩০ থেকে ১৪০টি। পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে উঠেছে মূলত তাদের মিত্র বলে খ্যাত চীনের সহায়তায়।
সেনা, নৌ আর বিমান বাহিনীর প্রতিযোগিতা
সেনাশক্তি
ভারতের রয়েছে প্রায় ১২ লাখ সেনা সদস্য। আর তাদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে ৩ হাজার ৫৬৫টির ট্যাংক, সেনা পদাতিক বাহিনীর রয়েছে ৩ হাজার ১০০টি যুদ্ধযান, ৩৩৬টি সশস্ত্র বাহিনীর বহন যান এবং কামান আছে ৯ হাজার ৭১৯টি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের রয়েছে প্রায় ৬ লাখ। যা ভারতের প্রায় অর্ধেকের চেয়েও কম। তাদের সশস্ত্র বাহিনী পরিবহন যান রয়েছে ১ হাজার ৬০৫টি এবং আর্টিলারি বন্দুক ৪ হাজার ৪৭২টি এবং ট্যাংক রয়েছে ২ হাজার ৪৯৬টি।
বিমানবাহিনী
ভারতীয় বিমান বাহিনীর আকার বেশ বড়। তাদের এ বাহিনীতে সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার। তাদের যুদ্ধ বিমানের সংখ্যা ৮১৪টি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের যুদ্ধ বিমানের সংখ্যা প্রায় ৪২৫টি। এর মধ্যে রয়েছে চীনা প্রযুক্তির এফ-৭ পিজি এবং আমেরিকান এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন জেট।
নৌবাহিনী
ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার ৭০০ জন। তাদের ব্যবহারের জন্য আছে ১৬টি ডুবোজাহাজ, ১৪টি ডেস্ট্রয়ার, ১৩টি ফ্রিগেট, ১০৬টি টহল যান।
অপরদিকে নৌ শক্তিতে বেশ পিছিয়ে পাকিস্থান। তাদের রয়েছে মাত্র ৯টি ফ্রিগেট, ৮টি ডুবোজাহাজ, ১৭টি টহল ও উপকূলীয় যুদ্ধযান এবং ৮টি যুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য জাহাজ।
আরও পড়ুন


