মুক্তিযোদ্ধা, আবৃত্তিশিল্পী ও স্থপতি কাজী আরিফকে আগামীকাল বুধবার দুপুরে উত্তরায় চার নম্বর সেক্টরে মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে। তার মেয়ে অনুসূয়ার স্বামী জাভেদ বিন তাহির জানান, কাজী আরিফের আরেক মেয়ে নম্রতা কানাডায় আছেন। তিনি আজ রাতে ঢাকায় এসে পৌঁছার সম্ভাবনা আছে। তার জন্য ধানমন্ডিতে অনুসূয়ার বাসায় কাজী আরিফের মরদেহ লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা হবে। এর আগে আজ মঙ্গলবার বাদ আসর ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কের মসজিদে কাজী আরিফের তৃতীয় জানাজা হবে।
কাজী আরিফের মেয়ে অনুসূয়া বলেন, ‘বাবা কবিতা খুব ভালোবাসতেন। তাই সারাদিন কবিতা পাঠ আর সংগঠনের পেছনে সময় দিয়েছেন। তিনি আমাদের বলে গেছেন কবিতাকে ভালোবাসতে। আমরা জানতাম না বাবা এত মানুষের কাছে প্রিয়। কবিতা মানুষকে মহান করে, বাবার কারণে জানতে পেরেছি। সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন।’

আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কাজী আরিফকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। দুপুর পৌনে ১২টায় ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কাজী আরিফকে গার্ড অব অনার জানান। এরপর তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, গোলাম কুদ্দুস, কাওসার চৌধুরী, রোকেয়া প্রাচী, এস এম মহসীন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বিভিন্ন সংগঠন, তার বন্ধু, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী আর সংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজনসহ আরও অনেকে।
মুক্তিযোদ্ধা, আবৃত্তিশিল্পী ও স্থপতি কাজী আরিফের মরদেহ আজ সকালে ঢাকা এসে পৌঁছেছে। হয়রত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাজী আরিফের মরদেহ গ্রহণ করেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু শমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ বি এম হারুণসহ আরও কয়েকজন। ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দও।
আগেই জানানো হয়েছে কাজী আরিফের মরদেহ সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা হবে। সেখান থেকে কাজী আরিফের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ধানমন্ডিতে তার মেয়ে অনুসূয়ার বাসায়।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে মাউন্ট সেইন্ট লুকস হাসপাতালে কাজী আরিফকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গত মঙ্গলবার এই হাসপাতালে দ্বিতীয় বারের মতো তার হৃদপিন্ডে অস্ত্রোপচার করা হয়। কাজী আরিফের হার্টের বাল্ব অকেজো হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার বাল্ব পুনঃস্থাপন এবং ধমনীতে বাইপাস অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কাজী আরিফ।

কাজী আরিফের জন্ম ১৯৫২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, রাজবাড়ী সদরের কাজীকান্দা গ্রামে। বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম শহরে। পড়াশোনা, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য এসব কিছুরই হাতেখড়ি হয় সেখানে। আবৃত্তির পাশাপাশি লেখালেখিও করতেন তিনি, সক্রিয় ছিলেন সাংস্কৃতিক আন্দোলনে।
১৯৭১ সালে ১ নম্বর সেক্টরে মেজর রফিকুল ইসলামের কমান্ডে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন কাজী আরিফ। এরপর যুদ্ধ শেষে বুয়েটে লেখাপড়া শুরু করেন আর সাথে সমান তালে এগিয়ে যেতে থাকে তার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি।বাংলাদেশের আবৃত্তিশিল্পের অন্যতম রূপকার কাজী আরিফ। তিনি মুক্তকণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।








