খুলনা থেকে: ৬ এপ্রিল, ২০১৬। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম, খুলনা। আগের দিনের টর্নেডোতে স্টেডিয়াম যেন রূপ নেয় ধ্বংসস্তূপে। দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে যায় ইলেকট্রিক সাইডস্ক্রিন। ভেঙে যায় হসপিটালিটি বক্সের একাংশের ছাদ। গ্যালারি, মিডিয়া সেন্টার আগের দিনের ঝড়ে ক্ষত-বিক্ষত।
২৪ এপ্রিল, ২০১৮। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম, খুলনা। দুই বছর পরও দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক ভেন্যুর সেই একই চেহারা! দীর্ঘ সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি একটুও। আগের মতোই ধ্বংসস্তূপের নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে! প্রথম শ্রেণির ম্যাচ আয়োজন তাতে কষ্টসাধ্য। যতটুকু মেরামত না করলেই নয়, ততটুকু দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। মেরামত করা হয়েছে দুটি ড্রেসিংরুম ও ম্যাচ রেফারির কক্ষ। বাকি সবকিছুর অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কেন সংস্কার হয়নি সে প্রসঙ্গে ভেন্যুর ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার কচি চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, ‘মাঠের মালিক মূলত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এটা মেরামতের এখতিয়ার তাদেরই। বিসিবির পক্ষ থেকে অসংখ্যবার চিঠি দিয়ে মাঠের পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। এপর্যন্ত চারবার এনএসসির পরিদর্শক দল মাঠ দেখে গেছে। ক্ষতির তালিকা নিয়ে গেছে কিন্তু এখন পর্যন্ত মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা। সেই ধাক্কাও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভেন্যুটি। ক্যাবল এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে বিদ্যুৎ সাপ্লাই নাজেহাল অবস্থায়। দোতলা পর্যন্ত কোনোরকমে কাজ চালিয়ে নেয়া যাচ্ছে। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ তলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ড্রেসিংরুমের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও শতভাগ কার্যকর নয়। যে কারণে এসির পাশাপাশি কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে ফ্যান দিয়েও।
সংস্কার না হওয়ায় মিডিয়া সেন্টারের চারতলা ভবনজুড়ে শ্যাওলার ছোপ ছোপ দাগ দূর থেকেই দৃশ্যমান। গ্যালারির চেয়ারগুলো ভেঙে পড়ে আছে। এই মাঠ যেন টাইগারদের পয়মন্ত ভেন্যুর কঙ্কাল!
বিসিএলের ষষ্ঠ ও শেষ রাউন্ডের ম্যাচে মঙ্গলবার এ মাঠেই মুখোমুখি হয়েছে নর্থ জোন ও সাউথ জোন। সাত মাস পর বিসিএল খেলতে নেমেছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। এনামুল হক জুনিয়রকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশিবার পাঁচ উইকেটের রেকর্ড নিজের করে নিলেন আব্দুর রাজ্জাক। সেসব দেখার জন্য মাঠে উপস্থিত ছিলেন কেবল জনাবিশেক দর্শক। জীর্ণ গ্যালারি, শীর্ণ স্টেডিয়াম দেখে মাঠে আসার আগ্রহই যেন হারিয়ে ফেলেছেন খুলনার ক্রিকেটভক্তরা!
বিসিএলের ম্যাচ পড়ায় যেন বিপাকেই পড়ে গেছেন আব্দুস সাত্তার কচি। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যে কীভাবে চারদিনের ম্যাচটি ‘ম্যানেজ’ করা যায় সেই চিন্তায় রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তার। বাঁশের কাঠামো দিয়ে বানানো হয়েছে অস্থায়ী সাইডস্ক্রিন। বাতাসের বেগ বাড়লে ভেঙে পড়ার শঙ্কার মাঝেই চলছে ম্যাচ। ভেন্যু ম্যানেজার জানালেন, ম্যাচ শুরুর আগে দুবার ভেঙে পড়েছিল সাইডস্ক্রিন।
শত হতাশার মাঝেও আশার ক্ষীণ আলো দেখছেন কচিও। বিসিবি মাঠের গ্যালারির একটি অংশ দোতলা পর্যন্ত বর্ধিত করতে চায়। যদি এনএসসি অনুমোদন দেয় তাহলে বাজেট বড় আকারের হবে। তাহলে হয়ত গ্যালারির কাজের সঙ্গে সেরে ফেলা যাবে মেরামতের কাজও।








