একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার তদন্তকে ভিন্ন পথে নিতে সিআইডির দুই তদন্ত কর্মকর্তা ও একজন তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে জজ মিয়া কাহিনী সাজিয়েছিলেন। দোষ স্বীকার করা সত্ত্বেও মুফতি হান্নানকে আসামি করা হয়নি। আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে এ কথা বলেছেন মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ।
পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ এজলাসে শনিবার সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন তিনি।
প্রথম দিন কথা বলেছেন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ওই মামলার তদন্তের নানা দিক নিয়ে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, তার সাক্ষ্যে মূলত তিনজন তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান এবং তদারকী কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন। তারা মামলা দুটির তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহ করার চেষ্টা করেছেন সেটা সাক্ষী বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী করিয়ে জর্জ মিয়া নাটক কিভাবে সৃষ্টি করেছেন সেটাও উল্লেখ করেছেন।
আব্দুল কাহার আকন্দ বলেন, মূল অপরাধীদের আড়াল করতে যা যা করনীয় সবই করেছেন সেই সময়ের তদন্ত কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আরো বলেন, সংগঠিত এ জঘন্য অপরাধে যারা সম্পৃক্ত এবং যারা নির্দেশদাতা সহায়তা প্রদানকারী, পরিকল্পনাকারী, ষড়যন্ত্রকারী তাদেরকে আড়াল করার জন্য কি করেছেন, কিভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছেন সেটাও উল্লেখ করেছেন। তাদের তদন্তকালে মুফতি আব্দুল হান্নান গ্রেফতার ছিল অন্য মামলায়, সেটা জানা সত্ত্বেও মুফতি হান্নানকে একুশে আগস্ট মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি, গ্রেফতার দেখানো হয়নি।
সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ৩ ও ৪ অক্টোবর। পরের তারিখে তার তদন্তের খুটিনাটি নিয়ে আদালতে কথা বলবেন আব্দুল কাহার আকন্দ।
একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার সর্বশেষ সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুর কাহার আকন্দ। ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলার তদন্ত সঠিক গতিপথ পেলেও গ্রেনেডের উৎস ও মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে কিছু না থাকায় তাকে সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।







