সংসারে নিত্য অভাব , নেই বিদ্যুৎ এমনকি মাথার ওপর ভালোমতো ছাদও নেই, এমন পরিবেশে লেখাপড়া করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে অদম্য মেধাবী এক শিক্ষার্থী। রিকশা চালক বাবার পরিবারই শুধু নয়, এমন সংবাদে আলোকিত হয়েছে মেহেদীর পুরো গ্রাম।
পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার কেউন্দিয়া গ্রামের রিকশাচালক ইমাম হোসেন। জন্মের পর থেকেই অভাব আর অভাব। রিকশাচালিয়ে যে উপার্জন করেন তা দিয়ে সংসার চালানো একেবারেই অসম্ভব । এ কারণে সন্তানদের লেখাপড়ার কোনো খোঁজই রাখতেননা তিনি।
এই ইমাম হোসেনেরই ছোট ছেলে মেহেদী হাসান এবার ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পুরো এলাকা এখন ভাসছে আনন্দে।
মেহেদী হাসানের বাবা ইমাম হোসেন বলেন, আমি সারা জীবন কষ্ট করেছি। আমার ছেলে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। এখন আমি খুবই খুশি।
মেহেদী হাসান বলেন, অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো নয় তার জীবন। সব সবময়ই কঠিন পথে হাঁটতে হয়েছে তাকে। বাবা সকাল বেলা রিক্সা নিয়ে বেরিয়ে যেতো। ফিরতো অনেক রাতে। পাশের বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকলেও তার বাড়িতে ছিলোনা বিদ্যুৎ। কিন্তু তাতেও নিরাশ হয়নি কখনও। চেষ্টা করলে এই পরিস্থিতি থেকে উন্নতি সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেলেও এসএসসিতে বঞ্চিত হয়েছে মেহেদী। তাই জিপিএ ফাইভ পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে যারা লেখাপড়া করেন তাদের সতর্ক করেছে মেধাবী এই শিক্ষার্থী।
এলাকাবাসী বলছেন, পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে এমন ফলাফল সত্যিই আলোকিত করেছে তাদের। মেহেদী হাসান এখন কেউন্দিয়ার গর্ব। নিজের জন্য শুধু নয় ভালো ফল করে দেশের জন্য শতভাগ নির্ভেজাল থেকে কাজ করতে চায় মেহেদী।







