ওভারের প্রথম চার বলে হ্যাটট্রিকসহ টানা ৪ উইকেট। এখানেই শেষ নয়, ওভারের শেষ বলেও উইকেট। মাঝে একটা ওয়াইড ও পঞ্চম বলে এক রান। সবমিলিয়ে এক ওভারে মাত্র দুই রান খরচ করে ৫ উইকেট নেয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ভারতের জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়া কর্ণাটকের পেসার অভিমন্যু মিঠুন। তার আগে এ কাজ করে দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার আল-আমিন হোসেন। দ্বিতীয় বোলার হিসেবে নজিরটি গড়লেন মিঠুন।
ছয় বছর আগে এক ওভারে ৫ উইকেট নেন আল-আমিন। ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবস কাপ টি-টুয়েন্টিতে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে ইউসিবি-বিসিবি একাদশের হয়ে এক ওভারে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। আল-আমিন সেদিন ৫ উইকেট নেন ১৭ রান খরচায়। মিঠুন খরচ করেছেন ৩৯ রান।
শুক্রবার সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-টুয়েন্টি’র সেমিফাইনালে হরিয়ানার বিরুদ্ধে এমনই রেকর্ড গড়েন মিঠুন। ইনিংসের একেবারে শেষ ওভারে বল করতে এসে ভারতের হয়ে ৪টি টেস্ট ও ৫টি ওয়ানডে খেলা পেসার ফিরিয়ে দেন হিমাংশু রানা, রাহুল তেওয়াটিয়া, সুমিত কুমার, আমিত মিশ্র ও জয়ন্ত যাদবকে।

হিমাংশু, তেওয়াটিয়া ও সুমিতকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মিঠুন। চতুর্থ বলে মিশ্রকে আউট করে পরপর চার বলে চারটি উইকেট নেয়ার নজির গড়েন। যদিও ম্যাচে নিজের প্রথম তিন ওভারে ৩৭ রান খরচ করেন অভিমন্যু। শেষপর্যন্ত সেমিফাইনালে তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৫/৩৯। ৪ ওভারে মোট ১০টি ডট বল করেন তিনি।
২০১০ সালে সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ানডে ম্যাচে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় মিঠুনের। ওই বছরই জুলাইয়ে গলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট ক্যাপ পান। ৪ টেস্টে ৯টি উইকেট নেয়া ছাড়াও ১২০ রান করেছেন মিঠুন। ওয়ানডেতে নিয়েছেন ৩টি উইকেট এবং ব্যাট হাতে ৫১ রান করেছেন।
চলতি বছরটা দুর্দান্ত কাটছে মিঠুনের। গত মাসে জন্মদিনে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ২৫ অক্টোবর বিজয় হাজারের ফাইনালে তামিলনাড়ুর বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেটে ভর করে ট্রফি জেতে কর্ণাটক।
মিঠুনের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের দিনেও জয় পেয়েছেন কর্ণাটক। প্রথম ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৯৪ রান করে হরিয়ানা। জবাবে লোকেশ রাহুলের ৩১ বলে ৬৬ ও দেবদূত পাকিকালের ৪২ বলে ৮৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে জয় তুলে নেয় কর্ণাটক।







