অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবারের শীত মওসুমে রাজনৈতিক দল এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচি বেশি কেন? এটা কি আগামী নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি? দলগুলোর নেতারা এটাকে নির্বাচনী প্রস্তুতি বললে কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি না হলে এটি হয়ে যাবে আন্দোলনের প্রস্তুতিকাল।
ইতিহাস বলে, বাংলাদেশে শীত মানে রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়। ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালে আন্দোলনের নামে ব্যাপক সহিংসতাও দেখেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের শীতে অবশ্য তা ছিল না। আর এবার বিএনপি ও তার সমর্থক সংগঠনগগুলো ঘরোয়া কর্মসূচিতে বেশি ব্যস্ত।

এর কারণ কি নির্বাচনী প্রস্তুতি?
বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বড় একটি দল হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতিতো আমাদের সবসময় থাকে। তবে এটা নির্বাচনের প্রস্তুতি নয়। এটা আন্দোলনের প্রস্তুতি। আমরা শক্তিশালী একটি নির্বাচন কমিশনের কথা বলেছি। নির্বাচনে যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি না হলে এটা আন্দোলনের প্রস্তুতি হবে।
তিনি এটাও বলেন, রাজপথে আন্দোলনে বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। হয়তো নির্বাচন কমিশন ঠিকভাবে গঠিত হলো, কিন্তু প্রশাসনতো থাকবে সরকারের। হয়তো আমরা কোন আন্দোলন করতে গেলাম আর পুলিশ বাধা দিলো। পুলিশি বাধার মুখেতো আর আমরা কিছু করতে পারবো না। সেজন্যই ঘরোয়া কর্মসূচী চলছে।
‘এসব ব্যাপারে কিভাবে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করা যাবে সেই ব্যাপারে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
বিএনপির এমন অবস্থানের মধ্যে অন্য দল ও সংগঠন, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো একের পর সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করছে। এটাও কি আগামী নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি?

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে তাদের সবার জন্য এটি অবশ্যই নির্বাচনের প্রস্তুতি। এরইমধ্যে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
‘অনেকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন, সেই ব্যাপারে নানান জনের সঙ্গে কথা বলছেন, সেটাও নিশ্চয়ই নির্বাচনেরই প্রস্তুতি।’
এসবের মধ্যে রাজপথের কর্মসূচি বলতে শুধু বৃহস্পতিবার রামপাল প্রকল্পের বিরুদ্ধে বামদের হরতাল। এর বাইরে রাজনীতি অনেকটাই ঘরোয়া রাজনীতি। এটা কি বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগত কোন পরিবর্তন নির্দেশ করে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার অবশ্য তা মনে করেন না।
তিনি বলেন, ঘরোয়া রাজনীতি কিন্তু সবগুলো রাজনৈতিক দল করছে না। সরকারদলীয় ছাড়া অন্যদের রাজনীতিই বরং ঘরোয়া। তবে এটা যতটা না আন্দোলনের গুণগত পরিবর্তনের কারণে, তার থেকে বেশি হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সামর্থগত অভাবের কারণে।
‘এটা মূলতঃ তাদের অবস্থানগত ও ধারাগত পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।’
কোন রাজনৈতিক দলই এখন রাজপথে নেই উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, এটা রাষ্ট্রের চাপের কারণেও হতে পারে আবার ওই রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কৌশলও হতে পারে। তবে এর রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে সেভাবে জনগণের জন্য কোন দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে আসতে পারেনি ।
‘এখন হয়তো আন্দোলনে নামার নতুন কারণ তৈরি হবে। নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির বিষয় নিয়ে আবারও সামনে আসতে পারে রাজনৈতিক দলগুলো।’







