মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় সামরিক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দেয় তেহরানও। ইরান ঘোষণা করেছে কোনো ছাড় দেবে না তারা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় লক্ষ্য করা হয়েছে ইসরাইলের সামরিক স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে। বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন, এই সংঘাত কি ছড়িয়ে পড়বে বৃহত্তর যুদ্ধে?
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানগুলোতে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিররতায় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘ। সেখানে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে বড় শক্তিগুলোর ভিন্ন অবস্থানের কারণে দ্রুত সমাধান কঠিন। তবে এখনও কূটনৈতিক দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এই সংঘাত এখন আর শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক কূটনীতি দ্রুত মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরাইলের নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইউরোপের কিছু দেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বললেও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী। কিছু পশ্চিমা দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। সেক্ষেত্রে ব্রিটেন জার্মানী ও ফ্রান্সসহ ন্যাটোভ’ক্ত বেশিরভাগ দেশ আমেরিকার পক্ষ নিতে পারে।
গালফ অঞ্চলের কয়েকটি দেশে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়েছে। তারা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, অন্যদিকে ইরানের প্রতিবেশী। ফলে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে চায় বরং অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
ইরানের বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে পরিচিত রাশিয়া এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে তারা। উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও পশ্চিমা সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে চীন। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি ইসলামী বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমনের কঠোর সমালোচনা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু শক্তি সরাসরি অবস্থান না নিলেও ইসরাইল বিরোধী অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে বজায় রেখেছে।
মধ্যপ্রাচ্য বৈশ্বিক জ্বালানির কেন্দ্র। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যূদ্ধ দীর্ঘ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কূটনৈতিক চ্যানেল এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে সামরিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।
