হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সময় নিহত পুলিশ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের গড়া পাঠশালার শিক্ষা কার্যক্রম আর্থিক সংকটে হুমকির মুখে পড়েছে। রবিউলের নিজ গ্রাম, মানিকগঞ্জের কাটিগ্রামে ওই স্কুলে পড়াশোনা করছে ৪৮ জন বিশেষায়িত শিশু।
মানিকগঞ্জের কাটিগ্রাম। গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলামের বাড়ি এ গ্রামেই। নিজ গ্রামের বিশেষায়িত শিশুদের জন্য তিনি গড়ে তোলেন একটি স্কুল। কোনো শিশু জন্মগত কারণে যাতে পরিবারের বোঝা হয়ে না থাকে, সেজন্য এ স্কুলে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি কারিগরি বিষয়েও হাতে কলমে শিক্ষা দেয়া হয়।
স্কুলের জন্য জমি দান করেন রবিউলের মা করিমন নেছা। পুলিশের চাকরির পাশাপাশি ছুটির দিনে শিশুদের পড়াতে গ্রামে আসতেন রবিউল। শিশুদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন বড় স্যার নামে। স্কুলের খরচও চালাতেন রবিউল।

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সময় তিনি নিহত হওয়ার পর অনেকটাই থমকে পড়ে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম। তখন রবিউল ইসলামের কয়েকজন বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী এগিয়ে আসেন। তাদের আর্থিক সহায়তায়ই স্কুলের কার্যক্রম চলছে।
স্কুল পরিচালনাকারী সদস্য মাহমুদ টোকন বলেন, আমরা শিশুদের এখানে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সেুযোগ করতে চাই পাশাপাশি তাদের পরিবারের কর্মসংস্থান করা যায়।
স্কুলটিতে দুপুর বেলায় শিশুদের মাঝে খাবার দেয়ার যে ব্যবস্থা রবিউল চালু করেছিলেন তাও অব্যাহত রেখেছেন তারা। তবে স্কুলটিকে বড় পরিসরে নিতে রবিউলের স্বপ্ন এখন স্বপ্নই রয়ে গেছে।

ঝাটিগ্রামেই থাকেন রবিউল ইসলামের মা করিমন নেছা ও স্ত্রী উম্মে সালমা। তার এখন একটিই স্বপ্ন ছেলের স্কুলটি বাচিয়ে রাখতে সরকার ও সবাই যদি সহযোগিতা করে তাহলে এর মধ্যেই সন্তানকে খুঁজে পাবেন তিনি। রবিউল না থাকায় যেন স্কুলটি বন্ধ হয়ে না যায় সে দাবি পরিবারের।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:








