অস্কারের মনোনয়ন প্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে একটি বিষয় লক্ষ্য করা হয়েছে। আর তা হলো, যেসব ছবির মূল চরিত্রে কোনো নারী আছেন, সেগুলো মূল চরিত্রে পুরুষ থাকা ছবিগুলোর থেকে বেশি লাভজনক। নারী প্রধান ছবিগুলোর প্রোডাকশন বাজেট কম থাকলেও এগুলো বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করেছে।
বিবিসির অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে যে, প্রতি এক ডলারের বিপরীতে নারী প্রধান ছবিগুলো ২.১২ ডলার আয় করেছে। পুরুষ প্রধান ছবিগুলো গড়ে এক ডলারের বিপরীতে আয় করেছে ১.৫৯ ডলার। তবে ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৮% নারী প্রধান ছবি অস্কারে মনোনীত হয়েছে।

অস্কারের মনোনয়নে দেখা গেছে যে নারী প্রধান ছবিগুলো পুরুষ প্রধান ছবির চাইতে ৩৩% বেশি লাভজনক হয়েছে। এইসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ইন্টারনেট মুভি ডাটাবেজ থেকে। তবে এক্ষেত্রে ডকুমেন্টারি এবং শর্ট-ফিল্মগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫টি ছবির তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই অ্যানালাইসিসটি করা হয়েছে। তবে অ্যানালাইসিসে ডিস্ট্রিবিউশন এবং প্রমোশনাল খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গত বছর সিনেমায় ছিল নারীদের জয়জয়কার। নারী প্রধান ছবি ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য লাস্ট জেডি’,’বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’ এবং ‘ওয়ান্ডার ওমেন’ সাড়া জাগিয়েছে বক্স অফিসে।
তবে কোন ছবি সেরা হবে সেটা নিয়ে বাজি ধরার ক্ষেত্রে পুরুষ প্রধান ছবিই বেশি প্রাধান্য পায় বলে জানা গেছে। গত পাঁচ বছরে অস্কার মনোনীত ছবির পেছনে যত ডলার খরচ করা হয়েছে তার ৭৬ শতাংশই পুরুষ প্রধান ছবি বলে জানানো হয়েছে অ্যানালাইসিসে।
নারীদের প্রতি অস্কারের বৈষম্য নিয়ে অবশ্য সমালোচনা হয়েছে বহুবার। ২০১৫ সালে অভিনয়ের ক্যাটেগরিতে ২০জনই ছিলেন শ্বেতাঙ্গের। এছাড়াও পরিচালকদের মনোনয়নে একজনও নারী নির্মাতা ছিলেন না।
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০১৭ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে মাত্র ১৮% নারী ক্যামেরার পেছনের কাজে নিয়োজিত হন। অর্থাৎ পরিচালনা, প্রযোজনা, চিত্রনাট্য লেখা, এডিটিং এবং সিনেমাটোগ্রাফির পেশায় নারীরা এখনও ততটা আগ্রহী নন। অস্কারের এধরণের বৈষম্যে নারীদের আগ্রহ আরও কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিবিসি







