একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্যসব জাতীয় নির্বাচনগুলোর তুলনায় কম সহিংসতা হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের বক্তব্যের প্রসঙ্গে এ কথা বলেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ।
তিনি বলেন, একজন রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে ব্যাপক সহিংসতার কথা বলেছেন। সহিংসতা যেটুকু হয়েছে তার ভিক্টিম আওয়ামী লীগ।
শনিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সাথে দেখা করে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। সাক্ষাতের আগে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তারা।
প্রতিনিধি দলের প্রধান ও আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহু ধরনের প্রশ্ন, ঘটনা, রাজনৈতিক বক্তব্য প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াত-বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট অনেক বিতর্ক করেছেন, প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারা বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় ৫০০ লোক মারা গেছে। ২০১৪ সালে পেট্রোল বোমায় অন্তত আরো ৩০৪ জন মানুষ মারা গেছে। এবারের নির্বাচনে ২০০৬, ২০১৩, ২০১৪ সালের তুলনায় সহিংসতা কম হয়েছে বলে এ সময় দাবি করে প্রতিনিধি দল।
নির্বাচনকালীন সহিংসতায় আওয়ামী লীগের ছয়জন নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে আক্তারুজ্জামান বলেন: গত শুক্রবার দিনাজপুরে মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে ভণ্ডুল, প্রশবিদ্ধ করতে অপচেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াত চক্র। তবে সকল চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে জাতি সামগ্রিকভাবে তাদের রায় দিবে। সব বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং চতুর্থবারের মত শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আক্তারুজ্জামান বলেন: সকল পরিস্থিতিতে মোকাবেলা করতে সতর্ক থাকতে হবে। ভোটের দিন মিথ্যা ও ভুয়া অপপ্রচারের শঙ্কা আছে বলেও জানান তিনি।
তবে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে একটি নিরাপদ ভোট অনুষ্ঠানে কমিশনের প্রতি অনুরোধ করে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আক্তারুজ্জামান বলেন: আগের থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেই নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংঘাত ও সহিংসতার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিতে কমিশনের প্রতি অনুরোধ করে প্রতিনিধি দল।
পাশাপাশি যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও প্রতিরোধের মানসিকতা নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত আছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, শাহাবুদ্দিন ফরায়জী, গিয়াসউদ্দিন সরকার পলাশ, নির্বাচন সমন্বয় কমিটির সদস্য কুমার দেবুল দে ও মোস্তাফিজুর রহমান বাবলা।







