হলিউডে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ডেভিড ফিঞ্চার পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘জোডিয়াক’ এখনও দর্শকদের মুগ্ধ করে তার শিহরণ জাগানো কাহিনির জন্য।
এ ছবির কাহিনি নির্মিত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অমীমাংসিত অপরাধ ‘জোডিয়াক কিলার’-এর বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ষাটের দশকের শেষ ও সত্তরের দশকের শুরুতে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্ত্রাস ছড়ানো এই সিরিয়াল কিলারের রহস্যই সিনেমার মূল গল্প।
চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জেক ইলেনহল। রবার্ট গ্রেসমিথ চরিত্র, তিনি একজন রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট, যিনি খুনির পাঠানো কোড ভাঙার নেশায় জড়িয়ে পড়েন। মার্ক রাফালো (ইন্সপেক্টর ডেভিড তোশি), সান ফ্রান্সিসকো পুলিশের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা এবং রবার্ট ডাউনি জুনিয়র (পল অ্যাভেরি চরিত্রে), যিনি সাহসী ও ভিন্নধর্মী এক সাংবাদিক।
ডেভিড ফিঞ্চার ছবিটিকে সাজিয়েছেন সূক্ষ্ম কাহিনীবিন্যাস ও নিখুঁত নির্মাণশৈলীতে। অন্য অনেক থ্রিলারের মতো চটকদার উত্তেজনা নয়, বরং ‘জোডিয়াক’ তুলে ধরে সাংবাদিকতা, পুলিশি তদন্ত আর সত্য অনুসন্ধানে মানুষের অদম্য সংগ্রাম।
এ সিনেমা এক ভয়াল প্রশ্ন সামনে আনে— সব রহস্যের কি কখনো সমাধান হয়?
কেন দেখবেন ‘জোডিয়াক’? বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত শিহরণ জাগানো কাহিনি, অসাধারণ অভিনয়শৈলী ও শক্তিশালী চরিত্র উপস্থাপন। তদন্ত, সাংবাদিকতা ও সত্যের সন্ধানের অনন্য বর্ণনা। এক অমীমাংসিত রহস্যের ছায়ায় যাত্রা।
শেষ দৃশ্য পর্যন্ত দর্শককে প্রশ্নের ভেতর ফেলে রাখে এই সিনেমা। একের পর এক খুন, খুনির ফেলে যাওয়া রহস্যময় আলামত— সব মিলিয়ে ‘জোডিয়াক’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং আমেরিকার অপরাধ ইতিহাসে এক ভয়াল ও বাস্তব ভ্রমণ।
যারা ক্রাইম-থ্রিলারপ্রেমী কিংবা সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘জোডিয়াক’ নিঃসন্দেহে অবশ্যদ্রষ্টব্য।








