জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফ্রান্স ফুটবলে ফিরছেন জিনেদিন জিদান। দীর্ঘ বিরতির পর ডাগআউটে ফিরতে প্রস্তুত ফরাসিদের ‘৯৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপে দিদিয়ের দেশমের দায়িত্ব শেষ হলে জাতীয় দলের কোচিংয়ের হাল ধরবেন তিনি।
ফুটবল বিষয়ক নির্ভরযোগ্য সূত্র খ্যাত ইতালিয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো বেশ আগেই জানিয়েছিলেন, জিদান ও ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে পাকা কথা ইতিমধ্যে মৌখিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবার বিষয়টি দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক কর্মকর্তার বরাতে ইউরোপের গণমাধ্যম নিশ্চিত করছে। গ্রীষ্মে ফ্রান্সের কোচ হয়ে ডাগআউটে ফিরবেন জিদান।
দেশমের বিদায় ফ্রান্স ফুটবল গোপন রাখার চেষ্টা করেছিল। রোববার প্রকাশিত ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারোকে সাক্ষাৎকারে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ফিলিপ দিয়ালো প্রথমবার স্বীকার করেছেন, দেশমের বিদায়ের বিষয়টি।
তিনি জিদানের নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, ‘আমি জানি পরবর্তী কোচ কে হবেন।’ এরপরই ফেডারেশনের একটি সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে জিদানই হবেন কোচ।
১০৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা জিদান ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০০৬ বিশ্বকাপেও অংশ নেন, যা ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ আসর।
এরপর তিনি কোচিং ক্যারিয়ারে পা রাখেন। ২০২১ সালের জুলাই থেকে রিয়ালকে দুদফায় কোচিং করানো জিদান এখন কোন ক্লাব বা জাতীয় দলের দায়িত্বে নেই। রিয়ালে প্রথমদফায় তিন মৌসুমে টানা তিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এনে দিয়েছিলেন। মৌসুম শেষে ক্লাব ছেড়ে আবারও ফিরেছিলেন। পরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যর্থ হয়ে লিগ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন লস ব্লাঙ্কোসদের।
দুদফায় রিয়ালের হয়ে ৫৩ বর্ষী জিদান দায়িত্বে ছিলেন ২৬৩ ম্যাচে। যার ১৭৪ ম্যাচ জিতেছে ক্লাবটি, গোল করেছে ৬০৫টি।
এদিকে, দেশমের সঙ্গে ফ্রান্সের চুক্তি আছে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত। ২০২২ বিশ্বকাপের পর তার অধীনে ফ্রান্সের খেলায় ভাটা পড়েছে। ফ্রেঞ্চদের খেলায় ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন ও ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে বলেও সমালোচনা হচ্ছে। ২০১৮ সালে তার কোচিংয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স। ২০২২ আসরেও ফাইনালে গিয়েছিল ফরাসিরা, হারে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে।








