অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে আলোচনার মাঝেই আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন এই অভিনেতা। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কিছু তথ্য সামনে আনেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।
পোস্টের শুরুতেই আলভী লেখেন, এটি হয়তো তার “শেষ পোস্ট” হতে পারে। আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু বিচারে আইন তার বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্তই নিক, তা তিনি মেনে নেবেন। তবে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম বা ভুল বোঝাবুঝি হলে যেন মানুষ ও গণমাধ্যম বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে—এই অনুরোধ জানিয়ে কিছু তথ্য তিনি তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে আলভীর ভাষ্য,“আমার এই পোস্টে আমি কিছু ইনফরমেশন রেখে যেতে চাই, যেন আমার কিছু হলে অথবা আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হলে সাধারণ জনগণ ও সাংবাদিক ভাই বোনেরা এই বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং আইনের কাছে খতিয়ে দেখার দাবি রাখতে পারে।
আলভীর দাবি, তাদের বাসার ড্রইং-কাম-ডাইনিং স্পেসে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ বা এক্সেস তার কাছে কখনোই ছিল না; সেটি ছিল ইকরার মোবাইল ফোনে। তিনি জানান, বর্তমানে ইকরার ফোন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সিসিটিভি ফুটেজে ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাসায় কারা এসেছিলেন এবং কী ঘটেছে- তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। আলভীর দাবি, এই সময়ের ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে।
ইকরার বন্ধুদের বাসায় আসা নিয়ে আলভী জানান, তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি নেপালের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার পরের তিন দিন সন্ধ্যার দিকে ইকরার কয়েকজন বন্ধু বাসায় আসতেন।
তার দাবি, “২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলো। এসময় গুলোতে ৩ দিনই তারা সিগারেট/গাজা ও মদ্যপান করেছে । দুর্ঘটনার আগের দিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ঔষধও আনিয়েছে ঐ সময়ে যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।”
এ কারণে ওই তিন দিনের সিসিটিভি ফুটেজ যেন কোনোভাবে মুছে না যায়- এমন অনুরোধ জানান তিনি।
মোবাইল ফোন ও কথোপকথনের ফরেনসিক তদন্তের দাবিও তুলেন আলভী। পোস্টে আলভী বলেন,“ইকরার মোবাইল পুলিশের থ্রুতে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে । যেখানে স্পষ্ট চলে আসবে কে ইকরার একাউন্ট ডিসেবল করেছে এবং এটিও জানার প্রয়োজন আছে কেন করেছে। আমার সাথে ইকরার কনভার্সেশনের একটি দাড়ি কমাও পরিবর্তিত হয়নি, সেটি আমার ফোন ফরেনসিকে নিলে প্রমাণ মিলবে। যেটা আমি সেচ্ছায় পুলিশের কাছে দিবো।”
এ বিষয়ে আলভী আরো বলেন,“সবাইকে এই দিকটাও লক্ষ্য রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে যেন ইকরার ফোন থেকেও কোন কনভার্সেশন ডিলিট না হয়। যেমন ম্যাসেন্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অ্যাপ যেগুলো আছে। এমন কি ফোনের ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল লিস্ট এবং ২৫,২৬ ও ২৭ তারিখ রাতে ওর বন্ধুদের সাথে বাসায় আসা এবং চিল করা নিয়ে কনভার্সেশন।”
ইকরার পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়েও মন্তব্য করেন আলভী। তার দাবি, ঘটনার আগের রাতে যদি মদ্যপান বা মাদক সেবন হয়ে থাকে, তবে তা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে প্রতিফলিত হওয়ার কথা।
তিনি অনুরোধ জানান, রিপোর্ট যেন কোনোভাবে পরিবর্তন না হয় এবং পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়।
দীর্ঘ পোস্টে ইকরার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কিছু সংবেদনশীল ইঙ্গিত দেন আলভী। তিনি দাবি করেন, অতীতে তাদের সম্পর্কের মধ্যে নানা জটিলতা ও ভুল বোঝাবুঝি ছিল।
তবে একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সবকিছুর পরও তাদের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল এবং দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে দুজনকেই অনেক লড়াই করতে হয়েছে।
নানা চাপ ও পরিস্থিতির কারণে তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে কিছু ঘটতে পারে বলে পোস্টের শেষ দিকে তিনি আশঙ্কা করেন। আলভী লিখেন,“উপরের মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধ পরায়নতা ও আমার স্বকর্মসংস্থানের মানুষদের বেঈমানি হয়তো আমাকে দমিয়ে দিবে, হয়তো বাঁচতে দিবেনা। ১ জন মানুষও যদি বিবেচনার দুয়ার খুলে লেখাগুলো পড়ে থাকেন, প্লিজ তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে নিয়েন। মুছে যেতে দিয়েন না।”
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরাকে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সময় আলভী নাটকের শুটিংয়ে নেপালে ছিলেন বলে জানা যায়। পরে ইকরার পরিবারের পক্ষ থেকে আলভীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

