অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা মারা গেছেন শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে। রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটে গলায় ওড়না পেছিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন তিনি, এমনটা জানায় পল্লবী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আলমগীর জাহান।
তিনি বলেন, সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ হয়েছে, এখন তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় যাহের আলভীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে আলমগীর জাহান বলেন, ইকরার স্বামী অভিনেতা যাহের আলভী। তিনি নেপালে আছেন। তাদের মধ্যে মনমালিন্য থাকতে পারে। কী কারণে আত্মহত্যা করেছে সেটা তদন্ত শেষে বলা যাবে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ইকরার পরিবারের দাবী, যাহের আলভীর সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়। তার কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। আলমগীর জাহান বলেন, ফেসবুকে দেখেছি এই বিষয়ে। তবে নিবিড় তদন্ত অনুসন্ধান শেষ না বলে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব না। তার বাবা (ইকরার বাবা) ও পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ দিচ্ছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত করবো।
এদিকে, ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার (বাবা, মা, আত্মীয়স্বজন) যাহের আলভীকে দায়ী করছেন। এর সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তুমূলক বিচার দাবী করেছেন তারা। তবে এ বিষয়ে আলভী কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু জানা যায়নি।
তবে ইকরার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর নেপাল থেকে আলভী একটি ফেসবুক পোস্টে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
গণমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সেই পোস্টে আলভী লেখেন,“আমাকে একটু সময় দিন। আমি দ্রুত ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছি, ফিরে সবার সাথে কথা বলব। ততক্ষণ পর্যন্ত এই শোকের মুহূর্তে আমাকে এবং আমার পরিবারকে একটু মানসিক স্বস্তি দিন। আমাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হলেও দয়া করে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবেন না।”
এদিকে শনিবার রাতে ইকরার মা রেবেকা সুলতানা হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে ইকরাকে তিলে তিলে ক্ষয় করেছেন আলভী ও তার মা।
পোস্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য রবিবার সকালে ইকরার মরদেহ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দীর মর্গে রাখা হয়। সেখানে ইকরার বাবা কবির হায়াত খান বলেন, ক্ষোভে দুঃখে আমার মেয়ে ইকরা আত্মহত্যা করেছে। থানায় মামলা হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মিডিয়ার বদনাম আগে থেকে আছে। এই ঘটনায় বিচার না হলে আরও বদনাম হবে। আমরা আলভীর সঠিক বিচার চাই।
কবির হায়াত খান জানান, পোস্টমর্টেম শেষে ইকরাকে ময়মনসিংহের ভালুকাতে নিয়ে যাবেন। সেখানে পারিবারিক গোরস্থানে তার দাফন হবে।
পরস্পরকে ভালোবেসে ২০১০ সালে ইকরাকে বিয়ে করেন আলভী। এরই মধ্যে তাদের ভালোবাসার সংসার ১৫ বছর পার হয়েছে। এই দম্পতির রিজিক নামে পাঁচ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

