নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও তরুণ লেখক অলীন বাসারের নতুন উপন্যাস ‘আয়নার ওপাশে’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজের উন্মুক্ত মঞ্চে শিক্ষক, সহপাঠী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল এক আনন্দঘন আয়োজন।
নতুন এক আনন্দ নিয়ে হাজির হয় নটর ডেম কলেজ ক্যাম্পাস। কলেজ শিক্ষার্থীর গর্বে আনন্দিত শিক্ষার্থী শিক্ষক সকলে। কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র অলীন বাসার। যে বয়সে অন্যের গল্পের বই নিয়ে বুঁদ থাকার কথা তখন তাঁরই লেখা বই নিয়ে আগ্রহ সহপাঠীদের। ১৭ বছর বয়সে অলীন বাসারের এখন পর্যন্ত ১৫টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তা নিয়েই সকলের গর্ব।
নটর ডেম কলেজের উন্মুক্ত মঞ্চে শিক্ষক, সহপাঠী বন্ধু আর অতিথিদের নিয়ে এবারের নতুন উপন্যাস ‘আয়নার ওপাশে’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন অলীন বাসার। বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। প্রচ্ছদ এঁকেছেন প্রসূন হালদার। প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে নটর ডেম লেখককুঞ্জ।
প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা বলেন, গল্পের বই হাতে বড় হওয়ার বয়সেই অলীন বাসার লিখে যাচ্ছেন অনবদ্য সব গল্প। তার প্রতিটি লেখায় ফুটে উঠেছে অনন্য কল্পনাশক্তি, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং সৃজনশীলতা। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ‘আয়নার ওপাশে’ উপন্যাসেও যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন এই লেখক। উপন্যাসটি প্রকাশ হওয়ায় আনন্দিত খুদে থেকে কিশোর হয়ে ওঠা লেখক অলীন বাসার। প্রকাশনা উৎসবে ছাত্রের বই নিয়ে আলোচনা করলেন শিক্ষকরা। অলীনের উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করেন তারা।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফাদার আন্তনী সুশান্ত গমেজ বলেন, বর্তমান বিশ্বে ভালোবাসা খুব প্রয়োজন। ভালোবাসা নিয়ে গল্প, কবিতা প্রবন্ধ লেখার পরামর্শ দেন এই শিক্ষক।
বাংলা বিভাগের শিক্ষক মারলিন ক্লারা পিনেরো বলেন, যারা সাহিত্য রচনা করেন তারা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী।
শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন রণজিৎ কুমার নাথ, ফাদার আন্তনী প্রণয় গমেজ, সিএসসিপহ অন্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নটর ডেম লেখককুঞ্জের মডারেটর বাংলা বিভাগের প্রধান মো. শহিদুল হাসান পাঠান।
অতিথিরা বললেন, অলীনের লেখা নতুন চিন্তার খোরাক হবে পাঠকদের। সুন্দর বাক্যে উপন্যাস লিখেছেন অলীন। সব বয়সের পাঠক পড়ে আনন্দ পাবে এই বই। জীবন সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা আছে উপন্যাসে।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অলীন বাসার এর বই নিয়ে আলোচনা করেন শিশু সাহিত্যিক দন্ত্যস রওশন। বলেন, পঞ্চাশ বছর বয়সীর মতন শব্দ বাক্য দিয়ে উপন্যাস লিখেছেন অলীন যা অকল্পনীয়।
কথা সাহিত্যিক মোজাফফর হোসেন বলেন, একদিন এই ক্যাম্পাস অলীনকে নিয়ে গর্ববোধ করবে।
অনুষ্ঠানে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এর পক্ষ থেকে লিটু খান বলেন, লেখার মানসহ সকল বিষয় যাচাই-বাছাই করে আয়নায় ওপাশে ছাপা হয়েছে। এর উপস্থাপন, বাক্য গঠন, কাহিনী সবই নতুনত্বে ভরা। নটর ডেম কলেজের ছাত্রদের জন্য এই বইয়ে ৪০ ভাগ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
আয়নার ওপাশে কাহিনী সংক্ষেপ:
উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য মায়ের নীরব এক লড়াই। এরপর রঞ্জুর বাবার আকস্মিক আবির্ভাব এবং রঞ্জুর অস্বাভাবিক আচরণ গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয় নাটকীয়ভাবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রঞ্জু মুখোমুখি হয় এক ভয়াল রহস্যের। যেখানে বিশ্বাস, ভয়, দ্বিধা ও অদৃশ্য বিপদের ছায়া জড়িয়ে আছে একই সুতোয়। বাস্তবতা ও অলৌকিকতার মিশেলে সাজানো ‘আয়নার ওপাশে’ শুধু শিশু-কিশোর নয়, রোমাঞ্চপ্রেমী সব বয়সের পাঠকের মনেই দাগ কেটে যাবে, নিঃসন্দেহে।
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৫, ২২ মে ২০০৮, মঙ্গলবার, সাতক্ষীরায় জন্ম অলীন বাসারের। ২০১৫ সালে তার প্রথম বই প্রকাশ হয়। তখন তিনি ছিলেন প্রথম শ্রেণির ছাত্র। অলীন বাসার এর বিভিন্ন প্রকাশনি থেকে প্রকাশিত বইগুলো- আয়নার ওপাশে, ধর্মব্যাধি, বল্টুদের দেয়াল ঘড়ি, নীলরত্নের রাজ্যে মিনু, চক্র, পেটুক শিয়াল, কালো ঘোড়া, বাঘের গর্জন, বিড়াল পণ্ডিত, গোরস্তানে বিয়ে, পালোয়ানের হার, ভূতের টিউশনি, ভুতুম, ভুতুড়ে এবং অন্ধকারে ভূতের ছায়া।







