ভ্রমণপ্রিয় মানুষের কাছে পাহাড়, নদী কিংবা সমুদ্র সবসময়ই বিশেষ আকর্ষণের। সেই টান থেকেই ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পরিবার নিয়ে নেপাল সফরে যান এক পর্যটক। হিমালয়ের দেশ নেপালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই সফরের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা ছিল নানা ঘটনার সমন্বয়ে ভরা।
ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ছিল দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে তারা বিমানবন্দরে পৌঁছালেও প্রবেশ গেট ও চেক-ইন প্রক্রিয়ায় ভিড়ের কারণে বেশ সময় লেগে যায়। চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন শেষ করতে করতে প্রায় সাড়ে ১১টা বেজে যায়। এরপর এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে সংক্ষিপ্ত মধ্যাহ্নভোজ সেরে বোর্ডিং গেটের দিকে যান তারা। তবে ফ্লাইটটি প্রায় ৪০ মিনিট বিলম্বে ছেড়ে যায়।
বিমানে ওঠার পর আকাশে ভেসে থাকা মেঘের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে যাত্রীরা নেপালের আকাশসীমায় পৌঁছান। সবুজ পাহাড় ও মেঘের মায়াবী দৃশ্য যেন তাদের স্বাগত জানায়। পরে কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তারা অন-অ্যারাইভাল ভিসা সম্পন্ন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই লাগেজ সংগ্রহ করে বাইরে এসে স্থানীয় মুদ্রা বিনিময় ও সিম কার্ড সংগ্রহ করেন।
বিমানবন্দরের বাইরে ট্যুর অপারেটরের পক্ষ থেকে ড্রাইভার ও প্রতিনিধিরা তাদের স্বাগত জানান। নেপালের ঐতিহ্য অনুযায়ী অতিথিদের গলায় ‘খাদা’ পরিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর গাড়িতে করে তারা কাঠমান্ডুর থামেল এলাকায় একটি থ্রি-স্টার হোটেলে গিয়ে ওঠেন।
বিকালে তারা ঘুরতে যান স্বয়ম্ভুনাথ মন্দিরে, যা ‘বানর মন্দির’ নামেও পরিচিত। পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত এই বৌদ্ধ তীর্থস্থান থেকে কাঠমান্ডু উপত্যকার মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। দুই হাজার বছরের পুরোনো এই স্থাপনায় রয়েছে স্তূপ, মঠ, ভাস্কর্য এবং তিব্বতি প্রার্থনা চাকা। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে একই নকশায় তা পুনর্নির্মাণ করা হয়।
মন্দির দর্শনের পর রাতে তারা লাজিমপাত এলাকার জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ ‘নেপালি চুলো’-তে নৈশভোজ করেন। সেখানে নেপালি ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্যের আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন স্থানীয় খাবার। স্টার্টার হিসেবে ছিল ডাল স্যুপ, চিকেন পাকোড়া, মোমো ও স্থানীয় রাইস ওয়াইন। মূল খাবারে ছিল ভাত, রুটি, ডাল, সবজি ও মাংসসহ বিভিন্ন পদ।
খাবার শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নিয়ে দিনটি শেষ করেন তারা। প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার মিশেলে নেপাল সফরের প্রথম দিনটি তাদের জন্য হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।







